আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জবিতে Youth Impact Summit-2026 অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘Youth Impact Summit 2026’ অনুষ্ঠিত হয়েছে । তরুণদের দক্ষতা (Skills), কণ্ঠস্বর (Voice) ও নেতৃত্ব (Leadership) বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ সামিটে তরুণদের নেতৃত্ব, দক্ষতা ও সামাজিক পরিবর্তনে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের ১০ম তলার মিনি কনফারেন্স রুমে এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কার্যক্রম দপ্তর, চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশন (সিডব্লিউএফ) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং ক্লাব যৌথভাবে এ আয়োজন করে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের গ্রোথ এডিটর আজাদ বেগ এবং বিডিজবসের হেড অব প্রোগ্রাম অ্যান্ড অ্যাক্টিভেশন মোহাম্মদ আলী ফিরোজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ ইসরাত আজমেরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান তালুকদার বলেন, “আমি বাস্তব জীবন থেকে দক্ষতা, কণ্ঠস্বর এবং নেতৃত্ব, এই তিনটি বিষয়কে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে পেয়েছি। লিডারশিপ ক্লাসরুম থেকেই শুরু হয়। আমি যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি, সেখান থেকেই আমার লিডারশিপের যাত্রা শুরু।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সকলে মনে করি, লিডারশিপ মানে একটা রাজনৈতিক পদ। কিন্তু কর্মজীবনে এবং বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের লিডারশিপের দায়িত্ব নিতে হয়।”
পরিশ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে আনিসুর রহমান তালুকদার বলেন, “পরিশ্রম যদি থাকে, তাহলে যেকোনো কিছু সম্ভব। আমরা যারা যেকোনো কাজের পেছনে লেগে থাকি, তাহলে তার সফলতা আসবেই। আপনি একবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে দুইবার অথবা তিনবারে নিশ্চয়ই সফল হবেন।”
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “তরুণরাই একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে পারলে তারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়বে না, একই সঙ্গে দেশ ও সমাজের পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। Skills, Voice এবং Leadership-এর সমন্বয় তরুণদের সেই সক্ষমতা অর্জনের পথ তৈরি করে।”
তিনি বলেন, “বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, তাদের যোগাযোগ দক্ষতা, চিন্তার সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতৃত্ব দেওয়ার গুণও অর্জন করতে হবে। নিজেদের কণ্ঠকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শাহ্ ইসরাত আজমেরী বলেন, “পলিটিক্যাল সেক্টর হোক কিংবা গ্রাউন্ড সেক্টর, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তরুণদের জন্য স্কিলস, ভয়েস ও লিডারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটির সমন্বয়ে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারলে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আমরা যেমন দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারব, তেমনি অর্থনীতি, সমাজ, উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারব।”
তিনি বলেন, “আমাদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশ তরুণদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। তাই আমাদেরও এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশের তরুণরা যদি নিজেদের মেধা, সংস্কৃতি, শান্তিপূর্ণ মানসিকতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে কাজে লাগায়, তাহলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বকেও জয় করা সম্ভব।”
তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “ধৈর্য ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে কাজ করলে আমাদের দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি আমাদের কণ্ঠ ও আত্মবিশ্বাসও আরও শক্তিশালী হবে। আর দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতৃত্বের সক্ষমতাও তৈরি হবে।”
অনুষ্ঠানে তরুণদের দক্ষতা, কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্ব বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং সেরা ৫ জনকে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও চিল্ড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দ্য ডেইলি স্টারের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাকিব মাদবরকে Youth Impact Award-2026 দেওয়া হয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি-পুলিশবাহিনী জনপ্রত্যাশিত বাহিনীতে পরিণত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের এই পুলিশবাহিনী জনপ্রত্যাশিত