গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মাহফুজ সরকার রাকিব তরুণীর ঘরে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ আটক হওয়ার বিষয়টিকে নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে দাবি করে জানান, তিনি ছাত্রশিবিরের আক্রোশের শিকার। ভিডিওর খণ্ডিত অংশ দিয়ে শিবির নেতাকর্মীদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রশিবির নেতারা।

মাহফুজ সরকার রাকিব মুঠোফোনে বিশ্বত্ব এক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘একটি কথা বলি হাইলাইট করবেন না। ছাত্রশিবিরের ছেলেরা আমার প্রতি একটু বেশি আক্রোশ। এজন্য তারা কিছু গোপন ভিডিও খণ্ড খণ্ড করে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। ভিডিওগুলো তাদের চ্যানেল বা আইডি থেকে ছেড়েছে।’

ছাত্রশিবিরের সেসব সদস্যদের তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক বিষয়। এখন আর না বলি।গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আরও বলেন, ‘সেদিন আমার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল দেনমোহর ঠিক করা। তবে এ নিয়ে একটু হট্টগোল হলে সমাধানের চেষ্টার একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের লোকজন আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের এসব প্রচার পুরো ভিত্তিহীন। তারা ভিডিওতে দেখাচ্ছে, আমি লুঙ্গি পরা অবস্থায় নারীদের সঙ্গে কথা বলছি। তারা মূলত ভিত্তিহীনভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করেছে।’

এর আগে তরুণীর ঘরে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ আটক হওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে গাইবান্ধা শহরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন রাকিব।

লিখিত বক্তব্যে মাহফুজ সরকার রাকিব বলেন, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) পারিবারিকভাবে আমার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে, ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে আমার শ্রদ্ধেয় শ্বশুরের সঙ্গে ফোনে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং তাদের বাসায় ডাকেন। পরে আমি এবং আমার বড় আব্বু, দুলাভাই, চাচা ও চাচাতো ভাইদের নিয়ে সেখানে যাই। উভয়ই পরিবারের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সকালে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে নামাজের পূর্বে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এ পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল উভয় পরিবার সম্মতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে হয়। আমার বাবার সঙ্গে আমার শ্বশুরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কে ধারাবাহিকতায় এবং উভয় পরিবারের সম্মতিতেই এ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের পারিবারিক আলোচনার একটি অংশ গোপনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। পাশাপাশি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়ার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে আমি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ।

গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমি কোনো ধরনের অপপ্রচার, মিথ্যাচার কিংবা চরিত্র হরণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমি সত্য, ন্যায়-বিচার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে মানহানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *