সাম্প্রতিক
প্রায় ৫ লাখ মুসলিমের দেশ আর্জেন্টিনা বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত পটুয়াখালীতে ১৪ ঘণ্টা সমুদ্রে ভেসে থাকার পর ১৬ জেলেকে জীবিত উদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জের হোসেন ঝিনাইদহে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান কক্সবাজারে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি,পাহাড় ধসে মৃত্যুর শঙ্কা,সরিয়ে নিতে তৎপর প্রশাসন নড়াইলে ওয়ানশুটারগান ও গুলিসহ সন্ত্রাসী খবির মোল্য গ্রেফতার মতলব উত্তরের সুজাতপুর ডিগ্রি কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলের অভিযোগে ৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, দায়িত্বে অবহেলায় ৫ শিক্ষককে অব্যাহতি মাগুরায় শিক্ষার্থী ও কৃষকদের মাঝে ১০ হাজারের বেশি গাছের চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ রাজবাড়ীতে ব্যবসায়ীর বাড়ীতে ডাকাতি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট

কক্সবাজারে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি,পাহাড় ধসে মৃত্যুর শঙ্কা,সরিয়ে নিতে তৎপর প্রশাসন

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক লাখ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি স্থাপন করেছে ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণ হানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা কয়েক লাখ মানুষ বর্ষায় অতি বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢল ও পাদদেশে বসতিস্থলে নতুন করে ভয়াবহ পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দেয়। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সদর উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ অন্তত ৩০টি পয়েন্ট এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পৃথক ৪টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী,পাহাড়ধসের এই মারাত্মক ঝুঁকিতে এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন কক্সবাজারের কয়েক লাখ মানুষ। এর মধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের খাড়া পাহাড়ের ঢালে প্রায় ৮০ হাজার শরণার্থী অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, কক্সবাজার পৌরসভা, সদর, রামু, চকরিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় আরও প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক বাসিন্দা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন, যাদের জীবন প্রতি মুহূর্তে চরম হুমকির মুখে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর ৭, ১১ ও ১২ নম্বর ক্যাম্প, পালংখালীর ১৫ নম্বর ক্যাম্প এবং টেকনাফের উনচিপড়া ও লেদা ক্যাম্পের খাড়া পাহাড়ের পাদদেশে থাকা অস্থায়ী বসতিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ বিপজ্জনকভাবে বসবাস করছেন। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা ও সদরের লাইট হাউস পাড়া, সার্কিট হাউস পাহাড়ের পাদদেশ, লিংকরোড, মুহুরীপাড়া, কলাতলী আদর্শ গ্রাম, বৈদ্যঘোনা এবং ঘোনাপাড়া,দরিয়া নগর, পুলিশ লাইনের পেছনে বাদশাহ ঘোনা এলাকা তীব্র ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর পাশাপাশি টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের কানজরপাড়া ও লম্বাবিল, হ্নীলা, টেকনাফ পৌরসভার পল্লান পাড়া, নাইট্যংপাড়া, বাহারছড়ার শাপলাপুর এলাকা এবং রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও চকরিয়ার ডুলাহাজারা বনাঞ্চল সংলগ্ন পাহাড়ি ঢালগুলোকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কক্সবাজার শহরের ঘোনা পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ খলিল বলেন, রাতে যখন বৃষ্টি বাড়ে, তখন আমাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়, চোখের সামনে আলী আকবরের ঘরের ওপর পাহাড়ের অংশ ধসে পড়ল। আমরা দ্রুত গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও আকবর ভাইকে বাঁচানো যায়নি। আমরা গরিব মানুষ, যাব কোথায়? বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানে পড়ে আছি। একইভাবে উখিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা এনায়েত উল্লাহ জানান, ক্যাম্পের ঘরগুলো তৈরি হয়েছে পাহাড় কেটে। ভারী বৃষ্টি হলে মাটি ধুয়ে নিচে পড়ে। গত রাতে চোখের পলকে দুই পরিবার শেষ হয়ে গেল। আমরা এখন সবাইকে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলছি, কিন্তু এত বিপুল মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা ক্যাম্পে কম।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পন্না আক্তার বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমরা গতকাল থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে বা স্কুলগুলোতে চলে যাওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং করছি। যারা স্বেচ্ছায় যাচ্ছেন না, তাদের সরিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, শহরে পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যুর পর আমরা পুরো ছাত্তার ঘোনা ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বাড়াচ্ছি। বিপদ এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধার কাজের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান,গত তিন দিনের অতি বর্ষনে পাহাড়ি জনপদগুলো ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে উঠেছে তাই আমরা ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আজ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় পাহাড় ধসে শিশু শিক্ষার্থীদের আটকেপড়া এবং এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ৯শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারে আটকে পড়া শিশুদের পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :