কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত নাজিম উদ্দীনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, বুধবার সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে নাজিম উদ্দীনকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। শুনানিতে সাংবাদিকদের পক্ষে চকরিয়া অ্যাডভোকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুল কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিনসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে যান তিন সাংবাদিক। তারা হলেন, সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথ, এম জিয়াবুল হক এবং একেএম ইকবাল ফারুক।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সংবাদ সংগ্রহের সময় নাজিম উদ্দিনসহ কয়েকজন সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে ছোটন কান্তি নাথের মাথায়, এম জিয়াবুল হকের ডান হাতে এবং একেএম ইকবাল ফারুকের ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। বাদীপক্ষের দাবি, আহত এম জিয়াবুল হকের হাতের অবস্থা এখনও জটিল এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে পুনরায় অস্ত্রোপচারের জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক একেএম ইকবাল ফারুক বাদী হয়ে নাজিম উদ্দিনকে ১ নম্বর অভিযুক্ত করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্ত হিসেবে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নাজিম উদ্দীন, সাহাব উদ্দিন ও নুরুল আলম উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। জামিনের মেয়াদ শেষে তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে গত ৩০ জুন কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নাজিম উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর দুই অভিযুক্তকে অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়।











