ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার দশ নং ঘোপাল ইউনিয়নে জোবায়ের হোসেন পারভেজ (৩০) নামে এক যুবলীগ কর্মীর গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।গতকাল শনিবার ২৭ জুন সকালে ইউনিয়নের নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির সামনে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানায় , স্থানীয় দোকান সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পারভেজকে কুপিয়ে খুন করেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মামুন ও শাহাদাত।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানায়, গণঅভ্যুত্থানের পর ডজন খানেক মামলায় পারভেজ ও মামুন দীর্ঘদিন কারাগারে ছিল।
এসময় আদালতের নানা ধরনের ব্যয় পারভেজ বহন করলেও মামুন কোন টাকা দেননি। কারাবাস থেকে মুক্তি পেয়ে স্থানীয় দোকান নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। গত শুক্রবার ২৬ জুন রাত ৯টার দিকে বাড়ির সামনে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পারভেজ এর হাতে থাকা লাইট দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করে। বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষনিক বাড়ির লোকজন সুরাহা করে দেন।
নিহতের বাবা আবু তাহের জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে সর্বশেষ ছেলে পারভেজকে দেখেছিলেন তিনি।
শনিবার সকালে নিজ বাড়ির সামনে তার গলা কাটা ও হাত বিচ্ছিন্ন লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, একই গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে দোকান সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি পারভেজের ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন পারভেজের বাবা।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবু তাহের জানান, নিহত পারভেজ এবং অভিযুক্ত মামুন ও শাহাদাতের নামে থানায় বেশকিছু মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগেও তারা জেল পার্টনার ছিল। জামিনে বের হয়ে আসার পর উভয়ের মধ্যে বিরোধ বেড়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন নিহত পারভেজের বিরুদ্ধে ২৫ টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
লাশ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যার ফেনী আধুনিক জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।











