সাম্প্রতিক
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্সে মিলল ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা সাগর কলার বাগানে কৃষকের সবুজ স্বপ্ন ময়মনসিংহে একই পরিবারের ৮প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও’ ডিসির পক্ষ থেকে দিলেন সহায়তা নাবালকের জমি জালিয়াতিতে ভূয়া দলিল: মান্দায় মামলা ও হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় এক পরিবার নড়াইল জেলা পরিষদের ৩৮ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা ছাগলনাইয়ায় ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে যুবলীগকর্মী খুন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের আমের নতুন অর্থনৈতিক বিপ্লব পত্নীতলায় প্রতিবাদী ঐক্য মঞ্চের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও সমাবেশ মানসিক ভারসাম্যহীন ও প্রতিবন্ধী নারীর জেলা পরিষদে জমা রাখা টাকা উধাও….. ভারতের মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক এমপি

নাবালকের জমি জালিয়াতিতে ভূয়া দলিল: মান্দায় মামলা ও হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় এক পরিবার

নাবালকের জমি জালিয়াতিতে ভূয়া দলিল: মান্দায় মামলা ও হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় এক পরিবার
নওগাঁ প্রতিনিধিঃনওগাঁর মান্দায় নাবালকদের পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করতে ভূয়া দলিল তৈরি ও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। উপজেলার কামারকুড়ি গ্রামে বিবাদমান সাড়ে ৬১ শতক জমি নিয়ে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে মামলাটি বিজ্ঞ মান্দার সিভিল জজ আদালতে চলমান থাকলেও জমিতে যেতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারকুড়ি মৌজার ৩২ ও ৩৩ নম্বর খতিয়ানের ৭৪, ১৫৮, ১৬৬, ১৫০ ও ১৫৯ নম্বর দাগের মোট সাড়ে ৬১ শতক জমির মূল মালিক ছিলেন কামারকুড়ি গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী। তিনি ১৯৭৯ সালে ৩৫৮ নম্বর রেজিস্ট্রি দলিলমূলে তাঁর তিন নাতি মোকছেদ আলী, মোস্তাকিন আলী ও মোস্তফা কামালকে জমিটি দান করেন।
পরবর্তীতে ওই তিন ভাই নাবালক থাকা অবস্থায় তাদের পিতা বয়তুল আলী বেআইনিভাবে তাদের পক্ষে ৯৯ শতক জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে ১৯৮২ সালের ২৮ জুলাই ৬২০৯,৬২১০ ও ৯৪৩৮ নম্বর দলিলমূলে হাফিজুর রহমানের কাছে জমি হস্তান্তর করা হয়। ১৯৮৯ সালে ওই জমি হাফিজুর রহমান ও শহীদুল্লাহ বিক্রি করতে চাইলে, ভুক্তভোগী তিন ভাই (মোকছেদ, মোস্তাকিন ও মোস্তফা কামাল) ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সালে ১০৮৭ নম্বর দলিলমূলে পুনরায় নিজেদের জমির মালিকানা ফিরে পান।
অভিযোগ উঠেছে, ভুক্তভোগীরা জমিটি কেনার ঠিক একই দিনে (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯) একই গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান একটি রহস্যজনক দলিল বের করেন। ১০৯৬ নম্বর ওই কবলা দলিলে দেখানো হয়, নাবালক মোকছেদ আলীর কাছ থেকে সাড়ে ২৮ শতক জমি কেনা হয়েছে। একজন নাবালক কীভাবে জমি হস্তান্তর করতে পারে—তা নিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
অনুরূপভাবে, ১৯৮৪ সালে পিতা বয়তুল আলী কর্তৃক আব্দুস সামাদের কাছে হস্তান্তরিত ২৫ শতক জমি ১৯৯৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১০৭০ নম্বর দলিলমূলে পুনরায় কিনে নেন তিন ভাই। কিন্তু চতুর প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নান একই তারিখে (২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩) ১০৮৮ নম্বর আরও একটি ভূয়া দলিল তৈরি করেন। এছাড়া জমিটি হাতিয়ে নিতে আব্দুল মান্নান আরও তিনটি ভুয়া দলিল তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বয়স যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ওইসব দলিল সৃষ্টির সময়ে মোকছেদ, মোস্তাকিন বা মোস্তফা কামালের কেউই সাবালক ছিলেন না। এই জালিয়াতির পেছনে আব্দুল মান্নানের পাশাপাশি আফসার আলী, মোবারক আলী ও মোয়াজ্জেম আলী জড়িত রয়েছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে।
ভূমিদস্যুতার এই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ মান্দার সিভিল জজ আদালতে একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১৭)। মামলায় মোস্তফা মন্ডল ওরফে মোস্তফা কামাল এবং মোকছেদ আলীর স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগমকে বিবাদী করা হয়েছে।

বর্তমানে বিবাদমান জমিগুলো মোকছেদ আলী, মোস্তাকিন ও মোস্তফা কামাল এর দখলেই রয়েছে। তবে আদালতে মামলা চলমান থাকার অজুহাতে প্রতিপক্ষরা তাদের জমিতে যেতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, মিথ্যা মামলা ও অব্যাহত হুমকিতে তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। যেকোনো সময় জমি নিয়ে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা। এই জালিয়াতি ও হয়রানির হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :