ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার রুপনগর এলাকায় সাভার পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন আবু মোল্লার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল হোসেন মোল্লা খোকন মোল্লার মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানকার মাটি বিক্রি করেন। এ ঘটনায় খোকন মোল্লা বাধা দিলে আবুল হোসেন মোল্লা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী খোকন মোল্লা জানান,ধামরাই উপজেলা রুপনগর এলাকায় আমার ১০ শতাংশ পৈত্রিক কৃষি জমি রয়েছে। আমার জমির সাথেই আবুল হোসেন আবু মোল্লারও জমি রয়েছে। ২৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখে রাতের আঁধারে আমার তিন ফসলা কৃষি জমির মাটি ইটভাটার নিকট বিক্রি করে দেয়। মাটি বিক্রির বিষয়টি আমি জানার পর আবু মোল্লার নিকট কৈফিয়ত চাইলে, সে আমাকে বলে এই জমি তুই আর ফেরত পাবি না। তোকে ২০ লক্ষ টাকা দেই, জমিটা আমাকে দিয়ে দে। তখন আমি আবু মোল্লাকে জানাই, আমার ৫০ লক্ষ টাকার জমি আপনার নিকট ২০ লক্ষ টাকয় বিক্রি করবো কেনো? তাছাড়া এই জমিতে আমি শস্য উৎপাদন করি। আমি জমি বিক্রি করবো না। এভাবেই কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আবু মোল্লাসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন আমার এবং ছেলের ওপর অতর্কিত হামলা করে বসে।
হামলার সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাকে আহত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী জানান, আবু মোল্লা এবং সন্ত্রাসী বাহিনী আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। প্রাণনাশের আশংকা থাকায় আমি বসতবাড়ি ছেড়ে গরু ছাগল এবং স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছি। আমি সরকারের নিকট বিচার এবং নিরাপত্তা চাই।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আবুল হোসেন আবু মোল্লা জানান, আমি কারোর জমির মাটি বিক্রির সাথে জড়িত নই এবং কাউকে হামলা করেনি। বরং খোকন মোল্লা আমার লোকজনকে মেরে আহত করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক উপ পরিদর্শক ইব্রাহিম হোসেনকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












