চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ভারতজুড়ে ছাত্রদের তীব্র আন্দোলন ও তরুণ সমাজ বা ‘জেন-জি’র তোপের মুখে পড়ে ব্যাকফুটে চলে গেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। দেশের বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও তরুণ সমাজ থেকে কার্যত কোণঠাসা ও বিতাড়িত হয়ে এবার নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এলজিবিটিকিউ তথা সমকামী জনগোষ্ঠীকে কাছে টানার নতুন কৌশল অবলম্বন করেছেন সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবত।
গতকাল রবিবার হায়দরাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চরম ব্যাকফুটে থাকা আরএসএস প্রধান দেশের আন্দোলনরত তরুণ সমাজকে ‘অশান্ত’ ও ‘অপরিণামদর্শী’ আখ্যা দেন। একই সাথে মূল ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতে এবং নতুন সমর্থক গোষ্ঠী তৈরির চক্রান্ত হিসেবে সমকামী সম্প্রদায়কে ভারতের ঐতিহ্যের অংশ বলে দাবি করেন তিনি
সম্প্রতি সিসিজেপির নেতৃত্বে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ভারতজুড়ে অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং ‘সংসদ চলো’ অভিযানে পুলিশের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ভারতের তরুণ সমাজ উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও বর্তমান প্রশাসনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তরুণদের এই গণজাগরণে ভীত হয়ে মোহন ভাগবত ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্মের মনস্তত্ত্বকে কটাক্ষ করে বলেন, “এই প্রজন্মের তরুণরা খুব আবেগপ্রবণ এবং এরা শান্ত মাথায় চিন্তা করতে পারে না।” বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই আন্দোলনকারী ছাত্রদের চিন্তাভাবনাকে এভাবে হালকা করে দেখানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন আরএসএস প্রধান।
তরুণ সমাজের আস্থা হারিয়ে ভাগবত এখন অবক্ষয়িত সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন বলে অভিযোগ উঠছে। ভারতীয় ঐতিহ্য ও সনাতন সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে সমকামী জনগোষ্ঠীকে কাছে টানার জোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “এলজিবিটিকিউ সমাজ কোনো বাইরের বিষয় নয়, তারা ভারতীয় সমাজেরই একটি অংশ। প্রাকৃতিকভাবেই এই প্রবণতাগুলো বিদ্যমান। তারা মানুষ এবং তাদের বাঁচার অধিকার আছে। আমাদের সংস্কৃতি কোনোকালেই তাদের সমাজচ্যুত করেনি।”
বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএস-এর এই অবস্থান চরম দ্বিমুখী নীতিতে ভরা। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত করলেও সমলিঙ্গের বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তারা। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে তরুণদের রাজনৈতিক অসন্তোষ ও ছাত্র আন্দোলন যখন চরম আকার ধারণ করেছে, ঠিক তখনই ছাত্র সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন সামাজিক ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে আরএসএস প্রধান সমকামী কার্ড খেলছেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন মহল থেকে ভাগবতের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের মতে, তরুণদের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে ‘অশান্ত মনের উপজাত’ বানিয়ে উড়িয়ে দেওয়া এবং প্রথাগত মূল্যবোধের তোয়াক্কা না করে সমকামী সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা আরএসএস-এর দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।












