বাংলাদেশের ডিআরএস নিয়ে মন্তব্য আম্পায়ারের সতর্কবার্তায় ফের বিতর্কে স্মিথ

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ। ম্যাকাইতে চলমান দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশের রিভিউ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করায় তাকে সরাসরি সতর্ক করেছেন অন ফিল্ড আম্পায়াররা। এর আগে প্রথম টেস্টেও লিটন দাসের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ইনিংসের নবম ওভারে ঘটনাটি ঘটে। তাসকিন আহমেদের বল স্মিথের প্যাডে লাগলে জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন করে বাংলাদেশ। আম্পায়ার নিতিন মেনন আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও পেসার তাসকিন আহমেদ। এ সময় স্টাম্প মাইকে স্মিথকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি তো ওর দিকে অর্ধেক পিচ চলে এসেছি, বলটা অনেক ওপরে দিয়ে যাচ্ছে।’ পরবর্তীতে শান্ত যখন রিভিউ নেয়ার বিষয়ে দ্বিধায় ছিলেন, তখন স্মিথ উল্টো তাদের তাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘রিভিউ নাও।’

পরিস্থিতি বেশি দূর গড়াতে না দিয়ে দুই আম্পায়ার দ্রুত ক্রিজে এগিয়ে যান এবং স্মিথকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। আম্পায়ারদের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান ধারাভাষ্যকাররা। ফক্স ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার ব্রেন্ডন জুলিয়ান বলেন, ‘আম্পায়ারদের যুক্তি একদম ঠিক আছে। ডিআরএস নেয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ফিল্ডিং দলের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। ব্যাটারের এমন মন্তব্য করা কিছুতেই মানানসই নয়।’

স্মিথের এমন কাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটাররাও। মাইক হাসি বলেছেন, ‘স্মিথ যেভাবে ফিল্ডারদের রিভিউ নিতে বলছিল, তা আমার ভালো লাগেনি।’ ব্রেন্ডন জুলিয়ান আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বোলিং করার সময় প্রতিপক্ষ ব্যাটার এমন করলে তারা কখনোই বিষয়টি ভালোভাবে নিত না।’ কেরি ও’কিফ তো রসিকতা করেই বলে বসেন, ‘সত্তরের দশকে এমন আচরণ করলে তা গুরুতর শারীরিক আঘাতের কারণ হতে পারতো!’

উল্লেখ্য, এটি স্মিথের প্রথমবার স্টাম্প মাইকে বিতর্কে জড়ানো নয়। এর আগে ডারউইনে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও তাইজুল ইসলামের বলে আউটের জোরালো আবেদনের পর বাংলাদেশ উইকেটকিপার লিটন দাসের সঙ্গে তর্কে জড়ান স্মিথ। সে সময় লিটন তাকে শুধু ব্যাট করার পরামর্শ দিলেও স্মিথ দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, ‘আমি যা চাই তা-ই করবো।’

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন স্রেফ ৬৪ রানেই নিজেদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে শুরুটা ভালো করলেও শেষ দিকে স্বাগতিকদের চেপে ধরেন টাইগার বোলাররা। সাদা বলের ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৬ উইকেট তুলে নেন চোট কাটিয়ে ফেরা শরিফুল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত কিছুটা স্বস্তি নিয়েই দিনের শেষ করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫, লিড ১০১ রানের। তবে ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষের ডিআরএস সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করায় ক্রিকেট বিশ্বে স্মিথের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কাম্য নয়।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।