পিরোজপুর পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন,”আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাকে মাইনাস করে কোন কাজ করতে পারবেন না। পৌরসভার উন্নয়ন একটি সমন্বিত কাজ। পৌরসভার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা না করে কোন পরিকল্পনা না করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।”
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় পিরোজপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় কালে এমপি মাসুদ সাঈদী এসব কথা বলেন।
মাসুদ সাঈদী এমপি বলেন,”পিরোজপুর পৌরসভা একটি শতবর্ষী পৌরসভা। এখানকার রাস্তাঘাট,পানি সমস্যা নিয়ে আমি জাতীয় সংসদের দুইবার কথা বলেছি কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে পৌরসভা থেকে এখন পর্যন্ত একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা আমি পাইনি।পিরোজপুর পৌরসভার কর্তৃপক্ষের মনে রাখা উচিত পিরোজপুর-১ আসন থেকে জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আমার সঙ্গে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। আমি সমন্বয় করে কাজ করতে চাই।”
মাসুদ সাঈদী বলেন, “সংসদ সদস্য হিসেবে তার কাছে যে বরাদ্দ আসে নীতিমালার কারণে সেগুলো উপজেলায় দিতে হয়। পৌরসভায় সরাসরি বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। পৌরবাসীর প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,পৌরসভায় যে বাজেট আসে সেটা কোথায় যায়,কোথায় কিভাবে ব্যবহার হয় সেটা জানার অধিকার আমার এবং আমার জনগণের আছে।”
পৌরসভার পক্ষ থেকে সমস্যা তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাচ্চা না কাঁদলে যেমন মা দুধ দেয় না, তেমনি আপনারা যদি আমাকে না বলেন তাহলে আমি সমস্যাটা কিভাবে বুঝবো। সকল কাজ করার দায়িত্ব এমপি সাহেবের নয়।সমস্ত কাজ একটি সমন্বিত উদ্যোগ, শুধু এমপি নয় প্রধানমন্ত্রীকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। আমি আশা করব পিরোজপুর পৌরসভা ভবিষ্যতে আমার সঙ্গে কথা না বলে কোন পরিকল্পনা নেবে না। আমাকে মাইনাস করে কোন কাজ আপনার করতে পারবেন না।”
ফেলে রাখা উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি বলেন,” দুর্নীতি মামলা চলমান থাকলেও চাইলে কোন ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার দিয়ে রাস্তার কাজ করানো সম্ভব। ফেলে রাখা কাজ বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন এবছরের মধ্যেই কাজগুলো শুরু হবে। পিরোজপুর পৌরসভা এবং নাজিরপুর নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি ৪০ মিনিট কথা বলেছি। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে কথা শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী ও সচিবদেরকে সেখানে ডেকেছেন।”
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন,পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন,পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জামাল মল্লিক, নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বনিক, প্রকৌশলী শামীম, সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সহ পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রব, সেক্রেটারি জহিরুল হক, পৌর আমির ইসহাক আলী খান সহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



