ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে মাসের পর মাস অনুপস্থিত থেকেও অনৈতিকভাবে চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্মস্থলে না আসায় পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে নাগরিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ জরুরি সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১ বছর ধরে ওই চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে আসেন না। তিনি গাজিরভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ০৪ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখ সন্ত্রাসীবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করেন হালুয়াঘাট থানা পুলিশ, পরবর্তীতে তিনি জামিনে এলেও এলাকায় ফিরে আসেন নাই। তিনি এলাকায় না থাকায় পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বা অন্য কাউকে বিধি অনুযায়ী দায়িত্বও বুঝিয়ে দেননি। ফলে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, কোনো চেয়ারম্যান বা সদস্য পরপর তিনটি সাধারণ সভায় অনুপস্থিত থাকলে বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া টানা অনুপস্থিত থাকলে তার পদ শূন্য ঘোষণা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব ব্যক্তিগত কাজে বা আইনি জটিলতার কারণে এলাকা ছাড়া। কিন্তু তিনি পদ ছাড়ছেন না, আবার কাউকে দায়িত্বও দিচ্ছেন না। আমরা প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও কোনো কাজ হয়নি।
এছাড়াও গত ২মার্চ ২০২৫ হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে ৫ নম্বর গাজিরভিটা ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের নানা অপকর্মের কথা তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করা হয়। আওয়ামী লীগের সরকারের পতন হলেও তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাপটে চলছেন বলে অভিযোগ করে স্থানীয়রা। তাছাড়াও জমি দখল, ভোট কেন্দ্রে অবৈধভাবে সীল মেরে চেয়ারম্যান হওয়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থ লোটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউপি সদস্যদের হুমকি দেওয়াসহ নানা রকম অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায় কয়েকদিন ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেও চেয়ারম্যানকে উপস্থিত পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে ইউনিয়নের সচিব সুব্রত দেবনাথের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম অব্যাহত আছে। যখন কোন ডকুমেন্টস এ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় আমি তার বাসায় গিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে আসি।
এই বিষয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারনে আমরা সরাসরি অফিস করতে পারি না তবে জন্ম নিবন্ধন, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্সসহ উন্নয়ন সকল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমি সরাসরি পরিষদে না গেলেও কোন কাজ থেমে নেই।




