কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খননের সময় গ্যাস নির্গত হয়ে সৃষ্ট আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) দুজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে উখিয়ার ইনানীর ছোট ব্রিজসংলগ্ন বেওয়াচ হোটেল এলাকায় আব্দুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় পরিদর্শনে যান তাঁরা।
পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের ব্যবস্থাপক এস. এম. নাফিফুন আরহাম বলেন, “গ্যাসের প্রেশার দেখে আপাতত কী পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে, তা অনুমান করে বলা মুশকিল। ভূগর্ভস্থ চেম্বারে গ্যাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। গ্যাসের যে চাপ দেখা যাচ্ছে, তাতে মাটি বা বালুচাপা দিয়ে মুখ বন্ধ করা হলেও অন্য স্থান দিয়ে গ্যাস নির্গমনের ঝুঁকি রয়েছে। আগুনের রং এবং ধোঁয়া দেখে মনে হচ্ছে, এখানে যথেষ্ট পরিমাণে হায়ার হাইড্রোকার্বন রয়েছে। তবে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার পর বিস্তারিত বলা যাবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের দুই শ মিটার এলাকা থেকে স্থানীয়দের সরিয়ে নিতে হবে।”
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, “বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী দুই’শ মিটার এলাকা খালি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে কাজটি এত সহজ নয়, তাই বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন।
এদিকে সন্ধ্যার পর গ্যাসের উদ্গিরণ ও আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের বসতবাড়ি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ইনানী ও আশপাশের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ইনানীর ছোট ব্রিজসংলগ্ন বেওয়াচ হোটেল এলাকায় আব্দুল্লাহর বাড়িতে এক হাজার ফুট গভীর একটি নলকূপ খনন করতে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সারাদিন চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারেনি।



