ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় পিরোজপুরের ২০ হাজার ৯৪৫ নিবন্ধিত জেলে পরিবার

ইলিশের প্রজনন রক্ষায় মাছ ধরা বন্ধ, সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় জেলেদের আয়। এমন বাস্তবতায় পিরোজপুরের ২০ হাজার ৯৪৫ জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫২৩ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন চাল। পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে দেওয়া হবে এই ভিজিএফ সহায়তা।
 জেলার সাত উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলে পরিবার মঠবাড়িয়ায়—৬ হাজার। বিপরীতে সবচেয়ে কম কাউখালীতে—১ হাজার ৬৫০ পরিবার।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বরাদ্দ তালিকা বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তালিকা অনুযায়ী, পিরোজপুরের নদী ও উপকূলনির্ভর জেলেদের বড় একটি অংশই ইলিশ আহরণের সঙ্গে যুক্ত। প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এ সময় তাদের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সরকারি খাদ্যসহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয় হাজারো পরিবারকে।
বরাদ্দের হিসাবে জেলার চিত্রে সবচেয়ে এগিয়ে মঠবাড়িয়া। এ উপজেলার ৬ হাজার জেলে পরিবারের জন্য ১৫০ মে.  টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার মোট জেলে পরিবারের প্রায় ২৮ দশমিক ৬ শতাংশই মঠবাড়িয়ার। অর্থাৎ পিরোজপুরের প্রায় প্রতি চারজন নিবন্ধিত জেলে পরিবারের একজনের বাড়ি এ উপজেলায়।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ভান্ডারিয়ায়। সেখানে ৩ হাজার ৪০০ পরিবারের জন্য ৮৫ মে. টন চাল রাখা হয়েছে। জিয়ানগরে ২ হাজার ৮০০ পরিবারের জন্য ৭০মে. টন, নাজিরপুরে ২ হাজার ৬০০ পরিবারের জন্য ৬৫ মে. টন এবং পিরোজপুর সদরে ২ হাজার ২৫০ পরিবারের জন্য ৫৬ দশমিক ২৫মে. টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নেছারাবাদ এলাকায় ২ হাজার ২৪৫ পরিবারের জন্য ৫৬ দশমিক ১২৫ মে. টন এবং কাউখালীতে ১ হাজার ৬৫০ পরিবারের জন্য ৪১ দশমিক ২৫ মে. টন চাল বরাদ্দ রয়েছে।
২৫ কেজিতে কতটা সামলাবে নিষেধাজ্ঞার সময়?
নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে না পারায় শুধু দৈনন্দিন খাবারের সংকটই নয়, জেলেদের সামনে থাকে নৌকা-জাল রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণের কিস্তি, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ নানা খরচ। সেখানে একটি পরিবারকে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হলেও নিষেধাজ্ঞাকালীন পুরো সময়ের খাদ্যচাহিদা মেটানো কঠিন।
এ কারণে জেলেদের জন্য শুধু চাল বরাদ্দ নয়, সহায়তা পাওয়ার তালিকায় প্রকৃত জেলেদের অন্তর্ভুক্তি এবং সুষ্ঠু বিতরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখার সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নেও চাপ তৈরি হতে পারে।
পিরোজপুরে ইলিশ রক্ষার এ কর্মসূচির সাফল্য তাই শুধু নদীতে জাল না ফেলার ওপর নির্ভর করছে না। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের ঘরে খাবার পৌঁছানো, প্রকৃত জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ নদীতে জাল উঠলেও জেলের ঘরে যেন চুলা না নেভে—সরকারি সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সেটিই।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top