গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর তামিল সিনেমার সুপারস্টার ও বর্তমানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি থালাপাতি বিজয় নামেই বেশি পরিচিত, কারুরে এক সমাবেশে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। তখনও তিনি রাজনীতিতে নতুন, গায়ে তখনও সিনেমার গন্ধ।
বিজয়কে এক নজর দেখতে সেদিন মানুষের ঢল নেমেছিল। কিন্তু সে ঢল সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। তাতে প্রচণ্ড গরম আর হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে ৪১ জন মানুষ মারা যায়। বিজয় পরে নির্বাচনে জিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন, বিজয় ভেঙ্গে দিয়েছেন রাজ্যে ডিএমকে আর এআইএডিএমকের মধ্যে দ্রাবিড়ীয় ক্ষমতার পালাবদলের ৫৯ বছরের আধিপত্য।
মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি তাকে একনজর দেখতে এসে পদপিষ্ট হয়ে মারা যাওয়া পরিবারগুলোকে ভুলে যাননি। বিজয় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিরোধী দল ডিএমকে, এআইএডিএমকে এবং সুশীল সমাজ এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। আইনজীবী ও কয়েকজন নাগরিক সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে তুলে আদালতে মামলা ঠুকে দেন।
তবে গত ১০ জুলাই ঘটনার পর বিজয়ের প্রথম কারুর সফরের দিনেই আদালত সাময়িকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র বিলি করার অনুমতি দিয়েছিল। বলাই ছিল, মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করবে নিয়োগপত্রের বৈধতা। সাময়িক অনুমতির সুযোগে বিজয় সেদিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ৩২ জন সদস্যের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। তবে মাদ্রাজ হাইকোর্ট আজ ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। মাদ্রাজ হাইকোর্ট জানিয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ (সমতার অধিকার) এবং অনুচ্ছেদ ১৬ (সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা)-এর পরিপন্থী।
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও এই জাতীয় চাকরির দাবি জানানোর ফ্লাডগেট খুলে দেবে।
আদালতে আবেদনকারীর আইনজীবীরা বলেন, কোনো দুর্ঘটনা বা রাজনৈতিক সভার ট্র্যাজেডিতে নিহতদের পরিবারকে সরাসরি সরকারি চাকরি দিলে সাধারণ এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার খর্ব হয়। এছাড়া কারুর ট্র্যাজেডি এখন সিবিআই তদন্ত করছে। বিরোধী দল ডিএমকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এভাবে তড়িঘড়ি চাকরি দেওয়া হলে তা মামলার সাক্ষী ও তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
আরেক বিরোধী দল এআইএডিএমকে-এর সিনিয়র নেতা আর বি উদয়কুমার ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দেয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি সাধারণ পরিবারের লাখ লাখ যুবকের জীবিকার ওপর আঘাত হানে, যারা সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে নিয়ম লঙ্ঘণ করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরকারি চাকরি দেওয়া একটি ভুল পদ্ধতি। এটি রাজ্যের তরুণদের জন্য একটি মর্মান্তিক এবং ভুল নজির স্থাপন করে।’












