সাম্প্রতিক
আমরা বলেছি সরকারি সুবিধা না নেওয়ার চেষ্টা করবো, তবে কেউ নিলে অপরাধ নয় কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার তুলে দিলো প্রশাসন পূর্বাচলে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন বেনাপোলে আধুনিক হাসপাতালের দাবি: রাজস্ব আয়ের বিপরীতে সেবাবঞ্চিত জনপদ রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ৯০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার অজ্ঞাত ১৫ বছর বয়সী মেয়ের পরিবারের সন্ধান চায় ডিএমপির ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার কুড়িগ্রামে এনসিপির ৩৬ দিনের জুলাই জাগরণ কর্মসূচি শুরু কালিয়াকৈরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত মরণফাঁদ বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাদ খসে পড়ার আতঙ্কে খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান সমরাস্ত্র কারখানার জন্য ৫৫ একর জমি পেল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

কুড়িগ্রাম সীমান্তে দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তার পর রাতে বাংলাদেশী শিশুকে ফেরত নিল বিজিবি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশইন- পুশব্যাক নাটকীয়তার পর বাংলাদেশি শিশুকে রাতে ফেরত নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শিশুটির নাম জয়নাব বেগম (০৯)। সে মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং মধ্যকাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের জামাল হোসেনের কন্যা।
 শনিবার রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে ওই সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩ এর ৩ এস এর কাছে খায়রুল ইসলামের বাড়ির পিছনের বাঁশ বাগানে বিজিবি- বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের পর শিশুটিকে ফেরত নেওয়া হয়।
পতাকা বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপির সুবেদার ইব্রাহিম বিজিবি দলের নেতৃত্ব দেন। তবে  বিএসএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কে ছিলেন তা জানায় নি বিজিবি।
দক্ষিণ অনন্তপুর সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, শনিবার দুপুরে ১ টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩ এর সাব পিলার ৩ এর কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এক কন্যা শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিএসএফের এমন প্রচেষ্টার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পুশইন-পুশব্যাক নাটক। পরে শেষ বিকেলের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে পুরো এলাকায় খবরাখবর ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে শিশুটির মা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্তে এসে জানতে পারেন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে এক কন্যা শিশু আটক হয়েছে। পরে তিনি নিশ্চিত হন ওই শিশুটি তারই। বিষয়টি বিজিবিকে জানালে তারা বিএসএফের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে।
শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, তার শিশু কণ্যা মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সকাল ১১টার দিকে স্কুলে পাঠানোর সময় সে খাবারের বায়না ধরে। কিন্তু তিনি খাবার না দিয়ে তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। পরে দুপুর ১২ টায় খাবারের জন্য বাড়ি আসলে তার বাবা স্কুল থেকে বাড়ি আসার কারণে রেগে গিয়ে স্কুল শেষ করে খাবার খেতে বলেন। এতে শিশুটি অভিমান করে ওই সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় ঢুকে পড়ে। বিএসএফ তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিজিবি পুশ ইন ভেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে  তার মা স্কুলে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে স্কুলে নাই। তিনি এদিক ওদিক মেয়েকে খুঁজতে থাকেন। পরে তিনি জানতে পারেন তার মেয়ে সীমান্তে গেছে এবং বিএসএফ তাকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে গেছে।
শিশুটি বাংলাদেশি এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয় বিজিবি। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিজিবি বিএসএফ’র মধ্যে ১৫ মিনিটের মতো পতাকা বৈঠকের পর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে শিশুটিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিজিবি’র কাছে ফেরত দেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান তার বাবা মায়ের কাছে শিশুটিকে তুলে দেয়। এ সময় কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক, ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলমসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :