২৩ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে নৌ-পুলিশের ওপর সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য ও নৌকার মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে পাবনা-কুষ্টিয়া সীমান্তবর্তী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া এবং নৌকার মাঝি মোঃ তুহিন।
ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির একটি টহল দল পদ্মা নদীতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে হরিপুর এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলে।
নৌ-পুলিশের ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তারা অভিযান পরিচালনা করতে গেলে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা স্পিডবোটে এসে অতর্কিত হামলা চালায়।
গুলিবিদ্ধ নৌকার মাঝি মোঃ তুহিন বলেন, রাত প্রায় দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিলে ৩০-৩৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের ওপর হামলা চালায় এবং ২০-৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. হাসানুজ্জামান টুটুল জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ৫ জন নৌ-পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের শরীর থেকে গুলির পেলেট অপসারণ করা হয়েছে এবং বাকিরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, পদ্মা নদীর মাঝামাঝি পাবনা-কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।












