যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের (উই কেয়ার ফেজ-১, N7) কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ সময় প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের আশ্বাস ও আলোচনার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তাঁরা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একই প্রকল্পের আওতায় যশোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাঁদের।
তাঁরা জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের তালিকাভুক্ত করা, ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন অনুযায়ী বর্তমান বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্থাপনা অপসারণ বন্ধ রাখা, যশোরের মতো ঝিনাইদহ অংশের ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বরাদ্দের অর্থ নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত করা এবং অধিগ্রহণসংক্রান্ত তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা। পাশাপাশি ২০ আগস্ট ২০২৬ সালের উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জানান তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নির্ধারিত সময় পার হলেও তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ নোটিশ না দিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
তাঁরা জানান, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা অপসারণ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে কালীগঞ্জ অংশে কার্যক্রম পরিচালনা না করার আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলে বলেন, একই প্রকল্পের যশোর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ পেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অংশের ব্যবসায়ীরা কেন বঞ্চিত থাকবেন? তাঁরা অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, মহাসড়ক অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যাত্রী, চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাঁদের দাবিদাওয়া শোনেন এবং বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা ও তাঁর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।




