লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া গ্রামে জমি ও অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছেলে মো. ফারুকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আনার উল্লাহ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার ভোরে বসত ঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আনার উল্লাহর ওপর হামলা করা হয়। পরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে আনার উল্লাহর প্রথম স্ত্রী মারা যান। এরপর তিনি সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তাঁর চার ছেলে প্রবাসে থাকেন। সন্তানদের অভিযোগ, জমি কেনার জন্য তাঁরা বাবার কাছে বিভিন্ন সময়ে টাকা পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে তাঁদের নামে জমি না কিনে নিজের নামে সম্পত্তি কেনা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে।
বড় ছেলে মো. ফারুক অভিযোগ করে বলেন, তিনি ও তাঁর ভাইয়েরা প্রবাস থেকে জমি কেনার জন্য বাবার কাছে টাকা পাঠিয়েছেন। এবং আমার স্ত্রী তার বাবার বাড়ি থেকে ৮০,০০০ টাকা আমার বাবার হাতে তুলে দেন, তার নামে জমি ক্রয় করার জন্য, কিন্তু সেই টাকা দিয়ে আমার স্ত্রীর নামে জমি না কিনে আমার বাবা এবং বোনের নামে ক্রয় করেন।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
ফারুকের স্ত্রী আরজু বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর পক্ষ থেকেও জমি কেনার জন্য শ্বশুরকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে তাঁর নামে জমি কেনা হয়নি। জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে আনার উল্লাহ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সম্পত্তি কিনেছেন। সন্তানরা তাঁর ঠিকমতো খোঁজখবর নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
হামলার বিষয়ে আনার উল্লাহ বলেন, ছেলে ও তাঁর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি আহত হন। তবে তাঁর ছেলে তাঁকে হামলার উদ্দেশ্যে আসেনি বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে মো. ফারুক বলেন, তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর সৎ মা ভাত মাড়াই দিয়ে তাঁর ওপর হামলা করতে গেলে আমি সরে যাই কিন্তু আঘাত গিয়ে তাঁর বাবার মাথার ওপর লাগে। এতে তাঁর বাবা আহত হন। তিনি তার বাবার ওপর হামলা করেননি বলেও দাবি করেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে টাকা ও জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। সন্তানদের দাবি, তাঁদের দেওয়া অর্থের বিনিময়ে জমি তাঁদের নামে না কেনায় বিরোধের সূত্রপাত। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে আইনগত কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।




