সাম্প্রতিক
মাদক মামলায় সখিপুরে একজনের যাবজ্জীবন রাজবাড়ীতে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁওয়ে চালানবিহীন ট্রাকভর্তি ৩৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ ভোলা বোরহানউদ্দিনে ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নে কৃষকের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ২০, কয়েকটি বাড়িতে আগুন চার বছরে বেকারি পণ্য সরবরাহকারী থেকে ৩২ দোকান ও প্লটের মালিক, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন বেপরোয়া ট্রলির ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে মেরে দিলো রাজবাড়ী সদরে র‍্যাবের অভিযানে ৫ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ৫ আনন্দের মুহূর্তেই দীঘির পানিতে নিভে গেল সিমরানের প্রাণ সংশ্লিষ্ট ওই পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিহার পুলিশ

ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার বাড়ছে, অভিযোগ ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

জেলা সদর থেকে সীমান্ত—ডিবি, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার; সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গণআন্দোলনের উদ্যোগ।
মোঃ মাসুদ বিপ্লব ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), থানা পুলিশ, র‍্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং একাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, খুচরা পর্যায়ের কারবারিরা ধরা পড়লেও মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের অনেকেই এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব-সংলগ্ন এলাকা, মুন্সিপাড়া, আটগ্যালারী গবিন্দনগরসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধেও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী গণআন্দোলন গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বর্তমান মাদক পরিস্থিতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক অভিযানের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গীর নাগরভিটা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২ হাজার ৫৫০টি ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ টাকার বেশি। রুহিয়া থানার ঘনিমহেশপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিকাশ ঘোষের কাছ থেকে ১৬০টি ইয়াবা ও নগদ ২২ হাজার টাকা জব্দের দাবি করেছে পুলিশ। একই সময়ে বালিয়াডাঙ্গীর তেরকানিয়া এলাকায় ডিবি পুলিশের অভিযানে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে ৫৬টি ইয়াবা উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভাউলারহাট-শিবগঞ্জ মোড় এলাকা থেকে ২৯টি ইয়াবাসহ আরজিনা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রায় ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ রাজা হাসান রাজু ও রাফায়েল হাসান হৃদয় নামে দুই মামা-ভাগিনাকে গ্রেপ্তার করে।
সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালপাড়া (তেলিপাড়া) এলাকায় কাওসার আলীর কাছ থেকে ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং শহরের ফকিরপাড়া ব্রিজ এলাকায় আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে পাঁচটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। রুহিয়ার ধর্মপুর গ্রামে ডিএনসির অভিযানে সুজন আলী জুয়েলের কাছ থেকে ৩১টি ইয়াবা উদ্ধার করে তাকে আটক করা হয়।
এছাড়া সদর উপজেলার ডারাপাড়া এলাকায় র‍্যাব-১৩-এর বিশেষ চেকপোস্টে একটি পিকআপ ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং দুই আন্তঃজেলা মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাব জানায়, গাঁজাগুলো বিশেষ কৌশলে গাড়ির ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও ইয়াবা, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার এবং একাধিক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলায় তুলনামূলকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান কম হওয়ায় ওই এলাকাগুলোতেও আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, একটি বিশেষ চক্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কিছু মাদক কারবারিকে রক্ষা করছে এবং মাসোহারার বিনিময়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে শোনা গেলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সীমান্তঘেঁষা জেলায় মাদক চোরাচালান রোধে সাম্প্রতিক অভিযান ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তবে শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা, অর্থের জোগানদাতা ও চোরাচালান চক্রকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং মাদক কারবারি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :