অপরাধের অভিযোগে অস্বীকারের রাজনীতি
আমার পর্যবেক্ষণে, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে জামায়াতের একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া হলো—প্রথমেই অভিযোগ অস্বীকার করা। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র, ভুয়া তথ্য বা সাম্প্রতিক সময়ে এআই-নির্মিত কনটেন্ট বলে দাবি করা হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই এমন অবস্থান নেওয়া জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী আহসানুল হক মিলনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও বিএনপির অনেক সমর্থক ও নেতাকর্মী প্রকাশ্যে তার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্তত আমার পর্যবেক্ষণে, এটিকে এআই বা সম্পূর্ণ ভুয়া বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিতর্কের ক্ষেত্রে দলীয় সমর্থকদের একটি অংশ শুরু থেকেই অভিযোগকে ভুয়া, এআই-নির্মিত, ষড়যন্ত্র বা হ্যাকিংয়ের ফল বলে দাবি করেছেন। এসব ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার আগেই একপাক্ষিকভাবে অস্বীকার করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বলে আমার মনে হয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কোনো দলই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা না করে, নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ দেওয়া এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে দায় স্বীকার করে ব্যবস্থা নেওয়াই একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয়। রাজনৈতিক আনুগত্য কখনোই আইনের শাসন বা নৈতিক জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না।












