মারুফ আর মিতু—দুজনের গল্পটা যেন একই পথের দুই অচেনা পথিকের গল্প। প্রায় ১০ বছর একই স্কুলে, একই পরিবেশে বেড়ে উঠেছে তারা। প্রতিদিন একে অপরকে দেখেছে, পাশাপাশি বড় হয়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, এত বছরেও তাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। পরিচিত মুখ হয়েও যেন দুজন দুজনের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ছিল।
সময় নিজের গতিতে এগিয়ে যায়। স্কুলজীবন পেরিয়ে যায়, কেটে যায় প্রায় ছয়টি বছর। দুজনের জীবনও চলে যায় দুই ভিন্ন পথে। মনে হয়েছিল, হয়তো এই পরিচয়হীনতাই তাদের গল্পের শেষ।
কিন্তু গল্পের কিছু অধ্যায় শেষ হয় না—শুধু সময়ের অপেক্ষায় থাকে।
২০২৬ সালে, প্রায় ছয় বছর পর, হঠাৎ করেই আবার তাদের পরিচয় হয়। ২০ সেপ্টেম্বরের সেই দিনটি যেন দুজনের জীবনে নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু হয়ে আসে।
পরিচয় হওয়ার পর দুজনেই অবাক হয়ে যায়। তারা জানতে পারে, এতদিন যাকে নতুন করে চিনছে, সেই মানুষটিই আসলে তাদের বহু বছরের পরিচিত—যাকে তারা একই স্কুলে দেখেছে, যার সঙ্গে একই পরিবেশে বড় হয়েছে। অথচ এত বছর পাশাপাশি থেকেও কখনো একটি কথাও বলা হয়নি।
সেই বিস্ময় থেকেই শুরু হয় নতুন করে কথা বলা।
প্রথমে কথাগুলো ছিল খুব সাধারণ—একজন আরেকজনকে সম্বোধন করত ‘আপনি’ বলে। ধীরে ধীরে কথার পরিমাণ বাড়তে থাকে, দূরত্ব কমতে থাকে। অচেনা থেকে পরিচিত, পরিচিত থেকে আপন—কখন যে তাদের কথার মাঝে ‘আপনি’ বদলে ‘তুমি’ হয়ে গেল, দুজনের কেউই হয়তো খেয়াল করেনি।
যে দুজন মানুষ একসময় একই স্কুলে বছরের পর বছর পাশাপাশি থেকেও একে অপরের সঙ্গে কথা বলেনি, ছয় বছর পর এসে তারাই নতুন করে একে অপরকে জানার সুযোগ পেল।
কখনো কখনো জীবনে কিছু মানুষ খুব কাছে থেকেও অচেনা থেকে যায়। আবার সময়ের ব্যবধানে সেই অচেনা মানুষটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে পরিচিত একজন।
মারুফ আর মিতুর গল্পটাও ঠিক তেমন—একই স্কুলে দশ বছর পাশাপাশি বেড়ে ওঠার পরও পরিচয় হয়নি, আর ছয় বছর পর ফিরে এসে শুরু হলো নতুন এক পরিচয়ের গল্প।



