নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও রদবদল করে প্রজ্ঞাপন

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় আকার বাড়লো মন্ত্রিসভার। নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিলেন চার পূর্ণ মন্ত্রী এবং দুই প্রতিমন্ত্রী। এদের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন ড. মঈন খান, তথ্য ও সম্প্রচারের আন্দালিভ রহমান পার্থ। এদিকে, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এছাড়া হুমায়ুন কবীরকে করা হয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

একদিনে পরপর দুই শপথের স্বাক্ষী বঙ্গভবন। নিজে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে শপথ নেয়ার পরপরই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দরবার হলে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের প্রতিজ্ঞা করেন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী। এরপর গোপনীয়তার শপথ শেষে নির্ধারিত নথিতে সই করেন তারা।

সরকার গঠনের ৬ মাস পর মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হলেন চারজন, আর প্রতিমন্ত্রী ২ জন। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর শূন্য পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা জহির উদ্দিন স্বপনকে করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী দায়িত্ব পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর। বিএনপি সরকার গঠনের পর এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া দীপেন দেওয়ান তিন মাসের মাথায় পদত্যাগ করেছিলেন।

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা হুমায়ুন কবিরকে করা হয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় জানান নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা।

সরকারের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের কাছে প্রত্যাশা জানান আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় এখন সদস্য সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৪ জন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি-পুলিশবাহিনী জনপ্রত্যাশিত বাহিনীতে পরিণত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের এই পুলিশবাহিনী জনপ্রত্যাশিত