“নামাজ ছাড়বেন না,অন্যের হক নষ্ট করবেন না”-ঈদে মিলাদুন্নবীর সেমিনারে সৈয়দ সহিদউদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন আশেকানে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া সহিদীয়া মাইজভান্ডারীয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহজাদা শাহ সূফি সৈয়দ সহিদউদ্দিন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল হোসাইনী মাইজভান্ডারী।
ঐতিহাসিক ১২ ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে গতকাল ২৫ আগষ্ট ,বুধবার সকাল নয়টায় আশেকানে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া সহিদীয়া মাইজভান্ডারীয়ার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত “ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর তাৎপর্য” শীর্ষক সেমিনারে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মহানবী (সাঃ) এর পৃথিবীতে আগমন আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য রহমত স্বরূপ। আল্লাহ যে নেয়ামত আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন তার শোকর গুজার করতে হবে। প্রতি ঘরে ঘরে মিলাদুন্নবী কায়েম করতে হবে, বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে। কেননা,দরুদ শরীফ পাঠ করলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ও কাজকর্মে আল্লাহর বরকত নেমে আসে।
বিশ্ব নবীর শান্তির বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,রাসুল (সাঃ)-কে বাদ দিয়ে ইসলাম চিন্তাই করা সম্ভব না। নামাজ ছাড়বেন না, অন্যের হক নষ্ট করবেন না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নীহ ও সূফি দর্শনের আলোকেই প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং মানবিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, মহানবী (সাঃ) এর শিক্ষা শুধুই ধর্মীয় জীবনের জন্য নয়, মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রেও অনুসরণীয়। তাঁর আদর্শ ধারণ করতে পারলে সমাজ থেকে হিংসা,বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর হয়ে যাবে। তিনি সত্য,ন্যায়,ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। অতএব,ঈদে মিলাদুন্নবী শুধু আনন্দ উৎসবের বিষয় নয়, বরং মহানবী (সাঃ) এর জীবন,কর্ম ও আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করার দীক্ষা গ্রহণের দিন।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুফতি আব্দুল মতিন চাঁদপুরি,মুফতি নজরুল ইসলাম রেজভী, মাওলানা নজরুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জী  প্রমুখ।
দুপুর বারোটায় আশেকে রাসুল (সাঃ) শাহজাদা সৈয়দ সহিদউদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বে ঈদে মিলাদুন্নবীর আনন্দ শোভাযাত্রা ইঞ্জিনিয়ারর্স ইনস্টিটিউশন হতে মৎস ভবন, প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট হয়ে পূণরায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এসে শেষ হয়। যোহরের নামাজের পর তিনি আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন। মুনাজাতে তিনি মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেরও শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন