সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ‘ভুয়া ফোনকলের’ ভিডিও নিয়ে এবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জসিম উদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশ হাজার পরিবারকে সহায়তার অংশ হিসেবে দিয়াকুল যাই, তাদের দুর্দশার কথা শুনে দোহাজারী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাঈমকে কল দিতে বলি। উনি রিসিভ করার পর তাকে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ প্রদান করি।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি দেখতে পাচ্ছি- ভিডিওর প্রথম অংশ কেটে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। মোবাইলে কল বা মেসেজ আসা, বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সেন্সর সমস্যা, কান থেকে মোবাইল দূরে নেওয়া বা অন্য যে কোনো কারণে আলো জ্বলতে পারে।’
তার দাবি, ভিডিও আংশিক প্রচার করে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনকারীরা খারাপ রুচির পরিচয় দিচ্ছেন। অনেকে না জেনে বা না বুঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার দিচ্ছেন।
এর আগে গত ২০ জুলাই দোহাজারী পৌরসভার দিয়াকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ। বিতরণ শেষে উপস্থিত লোকজন তাদের চলাচলের রাস্তাটি পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়ায় দ্রুত সংস্কারের অনুরোধ জানালে তিনি দোহাজারী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাঈম উদ্দিনকে কল দেন। এমন ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি জসিম মোবাইলে কথা বলার ডিসপ্লেতে আলো জ্বলে আছে। যা উপস্থিত জনতার সামনে কলের অভিনয় করে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছে বলে ভিডিওটিতে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদকের হাতে থাকা এক মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে- এমপি জসিম উদ্দিনের হাতে এক ব্যক্তি মোবাইল দিয়েছেন। তিনি ফোনে নাঈমকে এলাকার দুর্দশার কথা বলেন ও দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। ভিডিওতে প্রথম ২৪ সেকেন্ড আলো বন্ধ ছিল এরপর একবার জ্বলে বন্ধ হয়ে আবার আলো জ্বলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমপির কর্মচারী ও দোহাজারীর বাসিন্দা জামাল ওয়াহিদ প্রকৌশলী নাঈমের মোবাইলে কল দিয়ে এমপি জসিম উদ্দিনকে মোবাইলটি দেন। পরে সংসদ সদস্য প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন।
দোহাজারী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী নাঈম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ২০ জুলাই সারাদিন সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনের সঙ্গে ছিলাম। রাতে বিদায় নিয়ে চলে আসি পরে তিনি দিয়াকুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে ত্রাণ বিতরণ করেন। সেখান থেকেই জামাল ভাইয়ের মোবাইল থেকে আমাকে পাহাড়ি ঢলে ভেঙে পড়া সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা পরের দিন সংস্কারের উদ্দেশ্যে পরিদর্শন ও ২২ জুলাই থেকেই জিও ব্যাগ দিয়ে সড়কের পাশে বাঁধ দিয়ে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করি।



