নির্দেশনা জারি হলেও সন্ধ্যার পর চলছে কিশোরদের আড্ডা, চালু কিছু কোচিং সেন্টার।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি এবং কিশোরদের সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পিরোজপুর জোলার কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের পাঁচ দফা নির্দেশনা জারির পরও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
 নির্দেশনায় সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের অযথা বাইরে অবস্থান, আড্ডা ও ঘোরাফেরা বন্ধের পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো সূর্যাস্তের আগেই শেষ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোথাও কোথাও এর ব্যত্যয় ঘটছে।
১০ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হাট-বাজার, পার্ক, ঘাট ও দোকানপাটে শিক্ষার্থীদের আড্ডা প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে নির্দেশনা জারির পরও কাউখালীর বিভিন্ন চায়ের দোকান, রাস্তার মোড় ও অলিগলিতে সন্ধ্যার পর স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোরদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্থানে নির্ধারিত সময়ের পরও কোচিং বা ব্যাচ কার্যক্রম চলতে দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল লিখিত নির্দেশনা জারি করলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকার বিষয়ে পরিবার থেকেই কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কিশোরদের শাসনের পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, পাঠচর্চা ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো গেলে আড্ডা ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমবে।
উপজেলা প্রশাসনের জারি করা পাঁচ দফা নির্দেশনায় অভিভাবক সভা আয়োজন, সূর্যাস্তের আগেই কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো শেষ করা, ক্লাস বা পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের দ্রুত বাড়ি ফেরানো, সন্ধ্যার পর নিয়মিত মনিটরিং এবং নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের কথা বলা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্দেশনাগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে অভিভাবক, শিক্ষক, কোচিং পরিচালনাকারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্দেশনা মানার দায়িত্ব সবার—কারণ আজকের কিশোররাই আগামী দিনের সমাজের নেতৃত্ব দেবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন