পাইকগাছায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর ও গর্ভপাতের মামলায় তদন্তে নতুন মোড়

এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রথম তদন্তে দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হলেও আদালতের নির্দেশে অধিকতর তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। খুলনার পাইকগাছায় সরকারি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তদন্তের এই পরিবর্তন মামলাটিকে নতুন মোড় দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে আদালতে।
প্রথম তদন্তে অব্যাহতির সুপারিশ, বাদীর নারাজি
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের কাকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাইপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় রাজিয়া বেগমের দায়ের করা মামলায় মো. ইয়াসিন আরাফাত ও মো. নয়ন মোড়লকে আসামি করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সরকারি ওয়াপদার রাস্তা-সংলগ্ন জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে আসামিরা বাদীর বাড়ির সামনে গিয়ে গালিগালাজ করেন এবং বসতবাড়ি ছেড়ে যেতে বলেন। প্রতিবাদ করলে বাদীর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ শাপলা খাতুনকে মারধর ও তলপেটে লাথি মারা হয়। পরে তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। চিকিৎসা-নথিতে অসম্পূর্ণ গর্ভপাতের উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে বাড়িতে প্রবেশ, হত্যার হুমকি ও কাজের অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়। তবে অধিকতর তদন্তে টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত হয়। প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে নারাজি জানান বাদী। পরে ২৯ এপ্রিল আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই, খুলনাকে নির্দেশ দেন।
চার ধারায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা
পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমানের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও চিকিৎসা-নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে। নথিতে ভুক্তভোগীর বাম হাতের মধ্যমা আঙুলে ক্ষত, তলপেটে ব্যথা এবং আল্ট্রাসনোগ্রামে অসম্পূর্ণ গর্ভপাতের উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৩, ৩১৩ ও ৫০৬ ধারায় এবং নয়ন মোড়লের বিরুদ্ধে ৪৪৭, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি জমির ভোগদখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে জমির মালিকানা ও ভোগদখলের বৈধতা সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে পৃথকভাবে যাচাইয়ের বিষয়।
প্রথম তদন্তে অব্যাহতির সুপারিশ থেকে অধিকতর তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল—মামলার তদন্তে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এখন আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তির।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top