‘উন্নয়ন হোক প্রকৃতির সঙ্গে, প্রকৃতির বিরুদ্ধে নয়’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুক্রবার ভোর ছয়টায় যাত্রা শুরু করে প্রথমদিনেই বরিশাল থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত সাতটি জেলা অতিক্রম করেছে ‘বরিশাল টু সাজেক গ্রিন রাইডার্স’ টিম।
১২ জুন থেকে শুরু হওয়া পাঁচদিন ব্যাপী এই পরিবেশ সচেতনতামূলক মোটরসাইকেল ট্যুরের কর্মীরা প্রথমদিনেই টিমটি বরিশাল, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবেশ রক্ষার লিফলেট বিতরণ করেছেন।
বরিশালের আগৈলঝাড়ার চেংগুটিয়া গ্রাম থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে যাত্রা শুরু করা ছয়জন পরিবেশকর্মী ‘পরিবেশ অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স চাই’ শ্লোগানকে সামনে রেখে পাঁচদিন ব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছেন। ট্যুরটি পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ’ এর মনিটরিং ও সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা রাইডে টিমটি বরিশাল সদর, মাদারীপুর শহর, শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্ট, চাঁদপুর ফেরীঘাট এলাকা, লক্ষ্মীপুর সদর, নোয়াখালীর মাইজদী ও ফেনী শহরে থেমে থেমে পথচারী, দোকানদার, রিকশাচালক ও শিক্ষার্থীদের হাতে লিফলেট তুলে দিয়েছেন। লিফলেটে প্লাস্টিক বর্জন, নদী-খাল দূষণ রোধ, বৃক্ষরোপণ ও শব্দদূষণ বন্ধের আহবান জানানো হয়।
দিনশেষে টিম লিডার সৈয়দ মো. মাজারুল ইসলাম রুবেল বলেন, আজকের টার্গেট ছিল মানুষের কাছে পৌঁছানো। বরিশাল থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত পথে যতো জায়গায় থেমেছি, সবাই একটা কথাই জিজ্ঞেস করেছে-ভাই আপনারা কেন যাচ্ছেন? আমরা একটাই উত্তর দিয়েছি-যখন শেষ গাছটি কাটা পড়বে, শেষ নদীটি বিষাক্ত হবে, তখন টাকা দিয়ে বাঁচা যাবে না। মানুষ শুনছে, বুঝছে। এটাই আমাদের স্বার্থকতা।
তিনি আরও বলেন, আজকের যাত্রায় টিম তাদের পাঁচ দফা অঙ্গীকার পুরোপুরি পালন করেছে। পুরো রুটে একবারেও ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়নি। পাহাড়ি ও জনবহুল এলাকায় অযথা হর্ন বাজানো হয়নি। প্রতিটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক আইন মেনে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
রাতে খাগড়াছড়িতে অবস্থান করছে টিম আগামীকাল ১৩ জুন সকালে খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি হয়ে সাজেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। সাজেক পৌঁছে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝেও পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে টিমের সদস্যরা।
টিমের সদস্যরা হলেন-সৈয়দ মো. মাজারুল ইসলাম রুবেল, আহাদ তালুকদার, মো. ইসমাইল হোসেন কাজল, রায়হান তালুকদার, রবিউল ইসলাম, সোহেল তালুকদার ও মেহেদী হাসান মুন্না।












