২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রস্তাবিত বাজেট বৈষম্যের প্রতিবাদ এবং বাজেট বৃদ্ধির দাবিতে আজ (১৫ জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
জকসু নেতারা বলছেন, চলতি অর্থবছরে দেশের শিক্ষাখাতে সামগ্রিক বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ২৯৭ কোটি টাকা বাজেট পেলেও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়টির বাজেট প্রায় ১১০ কোটি টাকার বেশি হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে ইউজিসির অনুমোদিত বাজেট তালিকায় দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৫৪৩ কোটি ৫৮ লাখ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫০৩ কোটি ৮৭ লাখ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৪৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এমনকি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও ৩৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা বাজেট পেয়েছে। সেই তুলনায় শিক্ষার্থী সংখ্যা, আবাসন সংকট এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র ১৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়ে তালিকার ১৫তম স্থানে অবস্থান করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বাজেট বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। আবাসিক হল সংকট, গবেষণা তহবিলের সীমাবদ্ধতা, নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন,”দেশের শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়লেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কমিয়ে দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, পরিবহন সংকট ও নানা অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যে পড়াশোনা করছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কমানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। আমরা এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানাই।”
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাজেট কমানোর ফলে গবেষণা, ল্যাব সুবিধা, শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে বাজেট বৃদ্ধি করে জবির প্রতি চলমান বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে।”
জকসুর লাইব্রেরি সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব বলেন,”একবিংশ শতাব্দীর উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও গ্রন্থাগার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান বাজেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা এমন একটি বাজেট চাই, যা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথ সুগম করবে।”
এ সময় শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা, আবাসন সংকট সমাধানে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাজেট পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।












