স্পেন। তবে এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ফাইনালই নির্ধারণ করে দিতে পারে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে।
রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তাই এই ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে বিশ্বকাপের পাশাপাশি কে হবেন বর্ষসেরা ফুটবলার তার দিকেও।
একসময় লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আধিপত্যে থাকা এই পুরস্কারের লড়াই এবার অনেক বেশি উন্মুক্ত। তবুও ইতিহাস বলছে, ব্যালন ডি’অর জিততে হলে সাধারণত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতা বড় ভূমিকা রাখে।
গত ১৯টি ব্যালন ডি’অরের মধ্যে মাত্র চারবার এমন হয়েছে, যখন বিজয়ী খেলোয়াড় একই বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরো বা কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতেননি। এর মধ্যে তিনবারই ছিলেন লিওনেল মেসি (২০১০, ২০১২ ও ২০১৯) এবং একবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (২০১৩)।
সে কারণে দুর্দান্ত মৌসুম কাটালেও হ্যারি কেইন, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, ডেকলান রাইস কিংবা জুড বেলিংহামের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হচ্ছে।
মেসির সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ
৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেন সময়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই যাচ্ছেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব ফুটবলে দারুণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তিনি আর্জেন্টিনাকে টেনে এনেছেন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এমবাপ্পের সমান আট গোল থাকলেও বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
রোববার শিরোপা জিততে পারলে মেসি হবেন ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি টানা দুই বিশ্বকাপে নিজের দেশকে চ্যাম্পিয়ন করবেন। একই সঙ্গে এটি হতে পারে তার রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথ।
ইয়ামালের সামনে নতুন ইতিহাস
অন্যদিকে, মাত্র ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালও ব্যালন ডি’অরের অন্যতম বড় দাবিদার। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এক গোল করা ইয়ামাল ২০২৪ এর ইউরোর মতো ভূমিকা রাখতে না পারলেও, ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট করেছেন এই তরুণ তারকা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে না পারায় ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করছে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের ওপর।
কেইন-এমবাপ্পে-হালান্ডদের পথ কঠিন
হ্যারি কেইন ক্লাব ফুটবলে অবিশ্বাস্য মৌসুম কাটিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন এবং বায়ার্ন মিউনিখকে লিগ ও কাপ জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপ— দুই প্রতিযোগিতাতেই সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ায় তার সম্ভাবনা কমে গেছে।
কেইন নিজেও স্বীকার করেছেন, আমি যদি ১০০ গোলও করি, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা বিশ্বকাপ না জিতি, তাহলে সম্ভবত ব্যালন ডি’অর জিততে পারব না।
কিলিয়ান এমবাপ্পেও বিশ্বকাপে আট গোল করলেও রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপাহীন মৌসুম এবং ফ্রান্সের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় তার সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে।
আর্লিং হালান্ডও এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে ৭ গোল করলেও বড় আন্তর্জাতিক বা ইউরোপীয় শিরোপার অভাব তাকে পিছিয়ে দিয়েছে।
অন্য দাবিদাররাও আছেন
২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে এবারও আলোচনায় রয়েছেন। পিএসজির হয়ে লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপেও করেছেন ৫ গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট।
তার সতীর্থ খিচা কাভারাস্কেলিয়া ও ক্লাব ফুটবলে দারুণ মৌসুম কাটিয়েছেন। তবে জর্জিয়া বিশ্বকাপে খেলতে না পারায় তার সম্ভাবনা কমে গেছে।
ডেকলান রাইস ও জুড বেলিংহামও সেরা দশে থাকতে পারেন। তবে বড় কোনো আন্তর্জাতিক বা ইউরোপীয় শিরোপা না থাকায় তাদের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
ফাইনালেই মিলতে পারে উত্তর
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনালেই এই দৌড়ে সবচেয়ে বড় মোড় আসতে পারে।
স্পেন জিতলে তরুণ লামিন ইয়ামাল প্রথমবারের মতো বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাবেন। আর আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারলে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি আরও একবার প্রমাণ করবেন, বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে তার গল্প এখনও শেষ হয়নি।












