সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা ও খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকিতে মাঠে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ
 জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি সরেজমিনে যাচাইয়ের লক্ষ্যে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ সোমবার (৩ আগস্ট) ভান্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং খাল পুনঃখনন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।
দিনব্যাপী এ সফরের শুরুতে তিনি ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় স্বাস্থ্য ও ভূমিসেবার মান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি, রেকর্ড সংরক্ষণ এবং অফিসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। জনগণ যাতে দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা পায়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
এরপর জেলা প্রশাসক বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৬৮ নম্বর ভান্ডারিয়া হাই সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তিনি দেউলবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মহাজনের বাড়ি পর্যন্ত জার্মান খাল ও চরখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, কাজের গুণগত মান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, “খাল পুনঃখনন শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সেবার মান বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিকবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই জেলা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের দোরগোড়ায় কার্যকর সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বাড়াতে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও নিবিড় তদারকি ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *