নেত্রকোণা শহরের মগড়া নদী উদ্ধারের নামে বৈধ জমির মালিকদের উচ্ছেদের চেষ্টা এবং নদী খনন প্রকল্পে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নদীতীরবর্তী ভূমির মালিকেরা। এ বিষয়ে হয়রানি বন্ধ, স্বচ্ছ জরিপ ও প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভূমির মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কতিপয় কর্মকর্তার সহযোগিতায় একটি প্রভাবশালী চক্র নদী খনন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সিএস নকশার ভিত্তিতে বৈধ জমির মালিকদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে পাউবোর কর্মচারীরা কোনো ধরনের পূর্বনোটিশ ছাড়াই নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও দোকানপাটে গিয়ে সিএস নকশা অনুযায়ী জমি পরিমাপের চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদে ওই বছরের ২২ মে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর গণস্বাক্ষরসংবলিত আবেদন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মগড়া নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা রিট পিটিশন ৫১৬১/২০২৫ বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। ভূমির মালিকদের দাবি, বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী বৈধভাবে কেনা ও দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি শুধু সিএস নকশার ভিত্তিতে উচ্ছেদের উদ্যোগ আইনসম্মত নয়।
নদী খনন প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। লিখিত বক্তব্যে তাঁদের দাবি, ১৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মগড়া নদীর মাত্র ৪১ কিলোমিটার খনন করা হলে উজান ও ভাটির বাকি ১১৪ কিলোমিটার অংশে পলি জমে খনন করা অংশ আবারও ভরাট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল না পাওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া নদী ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার গভীর করে খনন করা হলে সাতপাই, মোক্তারপাড়া, কাটলী ও আরামবাগ এলাকার জনবসতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভূমির মালিকেরা। তাঁদের ভাষ্য, পৌর এলাকায় নদীর দুই তীরে প্রায় ১৪ কিলোমিটার জায়গা থাকলেও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে মাত্র ৮০০ মিটার করে। এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বৈধ জমির মালিকদের হয়রানি ও উচ্ছেদের উদ্যোগ বন্ধ, সিএস, এসএ, আরএস ও বিআরএসসহ সব ভূমি রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ জরিপ পরিচালনা, প্রকল্পের ডিপিপি, ব্যয় ও দরপত্রের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নদী খননের কারিগরি ও পরিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মিজানুর রহমান ইমন। এ সময় আজহার খান আবু, মো. আলাউদ্দিন, জামাল উদ্দিন খানসহ নদীতীরবর্তী জমির অন্যান্য মালিক উপস্থিত ছিলেন।
ভূমির মালিকেরা বলেন, তাঁরা মগড়া নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার বিরোধী নন। তবে নদী উদ্ধারের নামে বৈধ জমির মালিকদের হয়রানি কিংবা সরকারি অর্থের অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।




