শ্রমিকদের মজুরি ছয়টি শার্টের দামের সমান চান আমজনতার তারেক

তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ছয়টি শার্টের দামের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

একই সঙ্গে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের (বায়ার) প্রতিনিধিদেরও রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে এসব কথা লেখেন তারেক রহমান।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকার রহস্য এটাই যে কম মজুরিতে কাপড় বানিয়ে নিতে পারে। এই কম বেতনের কারণেই একটা কারখানার মালিক কিছুদিনের মাঝেই ৩টা কারখানা বানিয়ে ফেলে।’

‘যে কারখানাগুলো বন্ধ হয় যারা মনে করেন লসে বন্ধ হয় বিষয়টা এমন আমার কাছে মনে হয় না। এগুলো বেশির ভাগই বড় অংকের ঋণ নিয়ে বিদেশে সঁটকে পড়ে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘কেন বলছি, এত কম মজুরিতে লস হবার জায়গাটি কোথায়। তবে আমাদের গার্মেন্টসগুলো শহর থেকে সরিয়ে রংপুর বিভাগীয় অঞ্চল, শেরপুর জামালপুর, বাগের হাট খুলনা অঞ্চলে সড়িয়ে নেয়া উচিত। এতে করে স্বল্প বেতনেও সেখানে কাজ করতে পারবে।’

‘আমরা বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক বাজারের অন্তত ৬টি শার্টের দাম মজুরি হিসাবে পাক। এটা এর আগের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের সময়ের কথা। এখনো যদি ৬টা শার্টের আন্তর্জাতিক বাজার ধরে তাহলেও ৩৫০০ করে ২০০০০ টাকা ইজিলি হয়, এর সাথে অভার টাইম মিলায়ে ২৫০০০ টাকা সে পায়।’

তারেক রহমান লেখেন, ‘আমাদের সমাজের শিক্ষিত সমাজের অনেকে বলছে অনার্স পাস করে ১২০০০ টাকা বেতনে কাজ করে শ্রমিকরা কীভাবে ৩০০০০ টাকা চায়। তাহলে শুনুন, একজন ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি ১ ঘণ্টা কাজ করে ৫০০ টাকা নিয়ে যায়, ২ ঘণ্টা একটা স্যানিটারি মিস্ত্রি কাজ করলে ১ হাজার টাকার কম নেবে না। যাদের হাতে ভেলু উৎপাদন হয়, তার সেই যোগ্যতা থাকলে টাকা সে পাবেই।’

‘গতকাল অনেক কারখানায় আগুন দিছে, আমি মনে করি কোনো শ্রমিক তার কাজের ঘরে আগুন দেবে না। এই কাজ যারা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এরা হাজারো শ্রমিকের চাকরি নষ্ট করে দিয়েছে।’

তিনি লেখেন, ‘তবে শ্রমিকদের জন্য সুখবর যে মজুরি বোর্ড গঠন করে দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং একটা ভালো খবর। ’

‘আমি মনে করি, এই মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ বা মতামতের জায়গা থাকা জরুরি। শুধু তাই নয় এই বোর্ডে বায়ারদের অংশগ্রহণ করাটাও জরুরি। যে শ্রমিকদের টাকায় ১টা কারখানা থেকে ৭টা কারখানা বানাচ্ছে, তাদের শেয়ার ন্যায্যতার ভিত্তিতে দিতেই হবে।’

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

বিশ্ববিদ্যালয় কেবল চাকরিমুখী শিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয় কেবল চাকরিমুখী শিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

Scroll to Top