পর্যটন নগরী কক্সবাজারে জনসংখ্যা ও পর্যটকের চাপ বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি সেবা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এই প্রেক্ষাপটে শহরটিকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) এবং সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন বলেন, “কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরের জন্য নগর-পরিকল্পনার পাশাপাশি পরিবেশ, সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, জলাভূমি ও পর্যটন অবকাঠামোর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভয়াবহ ক্ষতির ঝুঁকি থেকেই যাবে।”
মহাপরিকল্পনায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য
ভূমিকার যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন রোধ এবং পরিকল্পিত পর্যটন নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে কউক একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা (মাষ্টারপ্ল্যান) প্রণয়ন করছে। এ বিষয়ে কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার কাজ সম্পন্ন হবে।
সিটি করপোরেশনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার
কক্সবাজার পৌরসভার পরিবর্তে সিটি করপোরেশন গঠিত হলে বৃহত্তর এলাকার জন্য সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত নগর-পরিকল্পনার সুযোগ তৈরি হবে। সড়ক নির্মাণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানি সরবরাহ, সড়কবাতি, জনস্বাস্থ্য, বাজার ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো জটিল বিষয়গুলো একটি একক প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আনা সহজ হবে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই কাঠামোর ফলে পর্যটন ব্যবস্থাপনাও নতুন মাত্রা পাবে। সৈকত সংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণশৌচাগার নির্মাণ, পার্কিং সুবিধা, শৃঙ্খলাবদ্ধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটক নিরাপত্তার মতো দিকগুলো পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দর, সমুদ্রসৈকত, মেরিন ড্রাইভ ও হোটেল-মোটেল জোনের সমন্বিত যোগাযোগ তৈরি হলে স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক রেজাউল করিম মোহাম্মদ তারেক বলেন, “শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা বর্জ্য ও দূষণ। শহরটি সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে এসব নাগরিক সমস্যার দৃশ্যমান ও স্থায়ী সমাধান আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”
সীমানা নির্ধারণ শেষ পর্যায়ে, মিলতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
গত ৩১ আগস্ট প্রস্তাবিত সিটি করপোরেশনের সীমানা চূড়ান্ত করতে জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। প্রক্রিয়াটি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক শামীম আল ইমরান জানান, সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত গণশুনানির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে; প্রক্রিয়া শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে সীমানা চূড়ান্ত করা হবে।
জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী জানান, চলতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার সফর করতে পারেন। সফরে তিনি কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন এবং ‘কক্সবাজার ব্লু ইকোনমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে, এই সফরকালেই তিনি কক্সবাজারকে দেশের ১৪তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।




