১০ সন্তানের বাবা-মা, না খেয়ে দিন কা’টে!কোন সন্তান রাখে না তাদের খবর। ভাঙা ঘরে মৃ’ত্যু’র প্রহর গুনছেন আছাব আলী ও সালেকা দম্পতি
সন্তান জন্ম দেন বাবা-মা, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে গড়ে তোলেন তাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যদি সেই বাবা-মাকেই কাটাতে হয় অনাহার, অসুস্থতা আর অবহেলার মধ্যে—তাহলে তার চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বানিয়াগাঁতী ভদ্রঘাঁট গ্রামের ৯০ বছরের বৃদ্ধ আছাব আলী ও তার ৮০ বছরের স্ত্রী সালেকা বেগমের জীবন যেন সেই নির্মম বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। ১০ সন্তান থাকা সত্ত্বেও আজ তারা বেঁচে আছেন প্রতিবেশীদের দয়া আর সহানুভূতির ওপর ভর করে।
আছাব আলী প্রায় অচল। নিজের পায়ে হাঁটতে পারেন না, চলাফেরা করতে পারেন না, এমনকি দৈনন্দিন প্রয়োজনেও অন্যের সাহায্য লাগে। অন্যদিকে বয়সের ভার আর নানা রোগে আক্রান্ত স্ত্রী সালেকা বেগম নিজেও অসুস্থ। তবুও স্বামীর সেবাযত্নে দিন-রাত এক করে চলেছেন তিনি। কখনো স্বামীকে ধরে ধরে বাইরে নিয়ে যান, কখনো একা সামলাতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা চান।
মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে একটি জরাজীর্ণ ঘর। টিনের চাল ও বেড়াজুড়ে অসংখ্য ছিদ্র। বৃষ্টি এলেই ঘরের ভেতরে ঝরে পানি। নেই কোন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, নেই কোনো ভালো শৌচাগার, নেই থাকার মতো নিরাপদ পরিবেশ। একটি ভালো খাট বা চৌকিও জোটেনি তাদের ভাগ্যে। বাঁশের মাচার ওপরই চটের ছালায় কাটে রাত। শক্ত বিছানায় শুয়ে ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে কখনো রাতভর বসে থাকেন তারা। বয়সের ভার আর রোগের যন্ত্রণায় যেন প্রতিটি রাত হয়ে ওঠে একেকটি দীর্ঘশ্বাসের গল্প।
জীবনের শেষ বয়সে আছাব আলী আর সালেকা বেগমের চাওয়া খুব বেশি নয়। তারা চান দুবেলা পেট ভরে খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ আর মাথার ওপর নিরাপদ একটি ছাদ। যে হাত একদিন সন্তানদের মানুষ করেছে, আজ সেই হাতই সাহায্যের আশায় প্রসারিত। যে চোখ একদিন সন্তানের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল, আজ সেই চোখে জমেছে অসহায়ত্বের অশ্রু। ১০ সন্তানের বাবা-মা হয়েও আজ তারা একা।











