সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের বাইরে অবস্থান ও আড্ডা বন্ধের নির্দেশ

সূর্যাস্তের পর শিক্ষার্থীদের অযথা বাইরে অবস্থান, আড্ডা ও ঘোরাফেরা বন্ধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে কাউখালী উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পড়াশোনার পরিবেশ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা এক চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/মাদ্রাসা প্রধান, সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি এবং বেসরকারি/কোচিং সেন্টারের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু শিক্ষার্থী সূর্যাস্তের পর বাইরে অযথা ঘোরাফেরা ও আড্ডায় সময় কাটাচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামাজিকভাবে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের অপরাধপ্রবণতা, মাদকাসক্তি ও সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঁচ দফা নির্দেশনা
১. অভিভাবক সভা ও সচেতনতা:
সূর্যাস্তের পর কোনো শিক্ষার্থী যাতে অযথা বাইরে অবস্থান বা ঘোরাফেরা না করে, সে বিষয়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে অবিলম্বে শিক্ষক-অভিভাবক সভা আয়োজন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর বাড়িতে অবস্থানের বিষয়টি তদারকিতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়েছে।
২. কোচিং-প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ:
কাউখালী উপজেলার সব কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষকদের সূর্যাস্তের পূর্বেই সব পাঠদান/ব্যাচ সমাপ্ত করতে হবে। সূর্যাস্তের পর কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যাচ বা প্রাইভেট ক্লাস পরিচালনা করা যাবে না।
৩. শিক্ষার্থীদের সময়মতো বাড়ি ফেরানো:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান ও বিভিন্ন পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা বা ক্লাস শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা যেন কালক্ষেপণ না করে বাড়ি ফিরে যায়, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪. সন্ধ্যার পর নিয়মিত মনিটরিং:
বিভিন্ন হাট-বাজার, পার্ক, ঘাট ও দোকানে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের আড্ডা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা:
শিক্ষার্থীদের সামাজিক ব্যাধি, কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নৈতিক শিক্ষামূলক পাঠদান ও সচেতনতামূলক আলোচনা সেশনের আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠির অনুলিপি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, সব সরকারি-বেসরকারি কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার প্রধান, কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট শিক্ষক এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি এবং কিশোরদের অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন