০৪ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে ঔষধের দোকান ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়া ফার্মাসিস্ট পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে একটি ফার্মেসিকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার কাঠেরপুল এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে ‘মেহেদী ফার্মেসি’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৯ বছর ধরে ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এছাড়া ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ মজুত রাখার পাশাপাশি কোনো বৈধ প্রশিক্ষণ বা নিবন্ধন সনদ ছাড়াই আরএমপি ও ফার্মাসিস্ট পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে।
এসব অপরাধের প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।
অভিযান চলাকালে কাঠেরপুল ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীদের জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিক্রির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযানটির নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া জেলার সহকারী পরিচালক। এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের একটি চৌকস দলও অভিযানে অংশ নেয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, ফার্মেসি ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের ফলে অনিয়ম কমবে, নিরাপদ সেবা নিশ্চিত হবে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।












