সাম্প্রতিক
চিত্রনায়ক সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত ওমান উপকূলে ট্যাঙ্কারে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা লালনের মাজারে অনৈতিক চর্চার অভিযোগ আমির হামজার, চান বন্ধের উদ্যোগ ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনী- রোটারির উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত চক্ষু রোগীরা পাচ্ছেন বিনামূল্যে অপারেশন গোয়ালন্দঘাট থানার বিশেষ অভিযানে ৭ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার ‘হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে এখনো ৮০০ টাকা পাই’ শুকিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, পানি নিয়ে হতে পারে যুদ্ধ ‘শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হচ্ছে’: সেনা প্রধান

লিবিয়ায় অপহৃত মান্দার আলমগীরের মৃত্যু, আড়াই মাস পর মরদেহ শনাক্ত

বৃহস্পতিবার,১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লিবিয়ায় অপহরণের শিকার হওয়ার দীর্ঘ আড়াই মাস পর নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেনের (৪৫) মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ২৮ মার্চ লিবিয়ার ত্রিপোলী থেকে পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে অপহরণ করে। এরপর মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
নিহত আলমগীর হোসেন উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এই নৃশংস মৃত্যুর খবরে নিজ গ্রাম নুরুল্লাবাদে এখন শোকের মাতম চলছে।
পারিবারিক ও লিবিয়া প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলমগীর হোসেন ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাকে একদল সন্ত্রাসী মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের ওই গোপন আস্তানায় আলমগীরসহ আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।
নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়াপ্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, “সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানা থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে ইতিমধ্যে ৫ জন বাংলাদেশি মুক্ত হয়েছেন। জিম্মি থাকা অবস্থায় আমার ভাইয়ের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল অপহরণকারীরা। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।”
তিনি আরও জানান, সোমবার (৮ জুন) লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া অন্য জিম্মিদের কাছ থেকে এই তথ্য জানা গেছে। পরে তাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি দেখে আলমগীরের মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। বর্তমানে তার মরদেহ উদ্ধার ও দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী শাহিনা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো উনার (আলমগীর) সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আমাদের কাছে দেশে টাকাও চায়নি। সোমবার রাতে ওনার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এখন আমাদের সব শেষ।” তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বামীর মরদেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান।
এ বিষয়ে মান্দার নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনেরা জানান, আলমগীরের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :