সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দান-নজরানা ও ওয়াক্ফ সম্পত্তির হিসাব-নিকাশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এ সময় তিনি মাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে ডিসি সারওয়ার আলম বলেন, মাজারে আগত দর্শনার্থীদের দেওয়া নগদ দান, নজরানা, কোরবানির পশু এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ ও সম্পদের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। অতীতে এসব আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, মাজার সংশ্লিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকার ২৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও বাকি ৫ কোটি টাকা মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা ছিল। তবে কর্তৃপক্ষ পুরো অর্থের সংস্থান করতে পারেনি। ইতোমধ্যে ৩ কোটি টাকা দেওয়া হলেও বাকি ২ কোটি টাকা এখনো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
ডিসি আরও বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি মাজারের তহবিলেও পর্যাপ্ত অর্থের হিসাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “ওয়াক্ফ সম্পত্তি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পদ। তাই এর প্রতিটি আয় ও ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব থাকতে হবে। জনগণের দান-অনুদানের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।”
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, “শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এ দেশের মানুষের জন্য আল্লাহর রহমত। আমরা চাই মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলো আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হোক। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যেন ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে দেশের সেরাদের মধ্যে স্থান করে নিতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে চাই।”
ডিসির এ বক্তব্যের পর মাজারের প্রশাসনিক কার্যক্রম, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং ওয়াক্ফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ভবিষ্যতে মাজার পরিচালনায় জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।












