চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোববার (১৪ জুন) ভোর ৪টায় মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’-এর এই ম্যাচ দিয়েই দুই দলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে। ম্যাচটি ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা।
এই ম্যাচের বড় আকর্ষণ ব্রাজিলের ডাগআউটে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির উপস্থিতি। ১৯৬৫ সালের পর প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নেইমার নেই, আক্রমণে ভরসা তরুণদের-
ম্যাচ শুরুর আগেই ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। ডান পায়ের চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় দলের প্রধান তারকা নেইমার জুনিয়র এই ম্যাচে খেলছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানান, নেইমার আপাতত মাঠের বাইরে থাকলেও আগামী সপ্তাহ থেকে অনুশীলনে ফিরতে পারেন।
তবে নেইমার না থাকলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও তরুণ এন্দ্রিককে নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ব্রাজিল শিবির।
আত্মবিশ্বাসী মরক্কো, চাপ ব্রাজিলের ওপর-
অন্যদিকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে টুর্নামেন্টে নেমেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা দলটি যেকোনো প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচটি শুধু গ্রুপ পর্বের সূচনা নয়, বরং দুই দলের শক্তিমত্তার বড় পরীক্ষা।
২৪ বছরের অপেক্ষা, বাড়ছে চাপ-
২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে শিরোপার অপেক্ষায় আছে ব্রাজিল। নতুন প্রজন্ম বিশ্বকাপ ট্রফি না দেখেই বড় হয়েছে যা দলটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
একসময় ‘সাম্বা ফুটবল’-এর জন্য বিখ্যাত দলটি এখন ফলাফলকেন্দ্রিক ফুটবলে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছে। ফলে এবারের বিশ্বকাপে তাদের ওপর প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
নতুন ব্রাজিল গড়ার চ্যালেঞ্জ-
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুনভাবে দল গঠনের চেষ্টা চলছে। ইনজুরি ও স্কোয়াড ভারসাম্য নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ধীরে ধীরে দল গুছিয়ে নিচ্ছে ব্রাজিল।
সম্ভাব্য একাদশে গোলপোস্টে অ্যালিসন, রক্ষণে মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, মাঝমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েস এবং আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া থাকছেন।
তবে ফুলব্যাক ও স্ট্রাইকার পজিশনে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। তরুণ এন্দ্রিক ও ম্যাথিউস কুনহার পারফরম্যান্স নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
লক্ষ্য ষষ্ঠ শিরোপা-
সব মিলিয়ে ব্রাজিলের লক্ষ্য একটাই ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়। এই বিশ্বকাপ তাই তাদের জন্য শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াই।











