জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রতি দীর্ঘ দুই দশকের বাজেট বৈষম্য দূরীকরণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিভিন্ন দাবি জানিয়েছেন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ জবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আজ ১৭ ই জনু শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ডিনস এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে জবি ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের নানা বৈষম্য ও সংকটের কথা তুলে ধরেন।
এসময় দেখা যায় জবি ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নীরব প্রতিবাদ ও দাবি জানাচ্ছেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— “বেগম জিয়ার হাতে গড়া দুই দশকের ইতিহাস, বাজেটের পাতায় বৈষম্য আর জবিয়ানদের দীর্ঘশ্বাস” এবং “রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার সম্পূরক বৃত্তি জবিয়ানদের অধিকার”।
বাজেট ও বৃত্তির ক্ষেত্রে জবির তীব্র বৈষম্য:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও শুরু থেকেই এটি চরম বৈষম্যের শিকার। অন্য স্বায়ত্তশাসিত বা বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় জবির বার্ষিক বাজেট অত্যন্ত অপ্রতুল। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাত, আবাসন সমস্যা সমাধান এবং ল্যাবরেটরিগুলোর আধুনিকায়ন থমকে আছে। এছাড়া জবি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিশেষ ‘সম্পূরক বৃত্তি’ বা রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, যা অন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকেন। আবাসন সংকটের কারণে জবি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে পুরান ঢাকার মেসে চড়া খরচে থাকতে হয়, অথচ তাদের জন্য কোনো বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা বা বৃত্তির ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি নিয়ে জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত দুই দশক ধরে বাজেটের পাতায় চরম বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। বেগম জিয়ার হাত ধরে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করেছিল, সেটি আজ অবহেলা আর জবিয়ানদের দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্পষ্ট দাবি জানিয়েছি— এই বাজেট বৈষম্য অনতিবিলম্বে দূর করতে হবে। জবিয়ানদের আর অবহেলা করা চলবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও অধিকার প্রসঙ্গে জবি ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহিন আলম বলেন, “অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সম্পূরক বৃত্তি পেলেও জবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা থেকে বঞ্চিত। সম্পূরক বৃত্তি পাওয়া জবিয়ানদের অধিকার, এটি কোনো দয়া নয়। আমরা আজ শিক্ষামন্ত্রীর সামনে আমাদের এই রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের দাবিটি তুলে ধরেছি। যদি দ্রুত জবির আবাসন সমস্যা, বাজেট স্বল্পতা এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তির দাবি মেনে নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ছাত্রশক্তি রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।”
শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জবি ছাত্রশক্তির এই যৌক্তিক দাবি ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দীর্ঘমেয়াদী বৈষম্যগুলো নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।











