সাম্প্রতিক
আমরা বলেছি সরকারি সুবিধা না নেওয়ার চেষ্টা করবো, তবে কেউ নিলে অপরাধ নয় কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার তুলে দিলো প্রশাসন পূর্বাচলে ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন বেনাপোলে আধুনিক হাসপাতালের দাবি: রাজস্ব আয়ের বিপরীতে সেবাবঞ্চিত জনপদ রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ৯০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার অজ্ঞাত ১৫ বছর বয়সী মেয়ের পরিবারের সন্ধান চায় ডিএমপির ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার কুড়িগ্রামে এনসিপির ৩৬ দিনের জুলাই জাগরণ কর্মসূচি শুরু কালিয়াকৈরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত মরণফাঁদ বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাদ খসে পড়ার আতঙ্কে খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান সমরাস্ত্র কারখানার জন্য ৫৫ একর জমি পেল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

মরণফাঁদ বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাদ খসে পড়ার আতঙ্কে খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান

যশোরের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের ঐতিহ্যবাহী ‘বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আজ অনেকেই দেশ ও সমাজের উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। অথচ অবহেলা আর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও স্থায়ী সমাধানের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে নির্মিত ‘কবি নজরুল ইসলাম ভবন’ এবং ১৯৯৬ সালে নির্মিত ‘কবি জসিমউদ্দিন ভবন’—দুটিই বর্তমানে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত। উপজেলা শিক্ষা অফিস ছয় মাস আগে ভবন দুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও এখনো বিকল্প নতুন ভবনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। ১২ জন শিক্ষক ও ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এই বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের চরম সংকট বিদ্যমান।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের অভাব এবং জায়গার সংকুলান না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিশুরা পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় ক্লাস করছে। বৃষ্টির দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে দুই শিফটে ক্লাস পরিচালনা করছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির কার্যক্রম চলছে।

এ বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বেদৌরা পারভীন আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের ১০টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন, কিন্তু আছে মাত্র চারটি। বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও নতুন ভবনের আশ্বাস ছাড়া আমরা কিছুই পাইনি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে আমরা বারান্দায় ক্লাস নিচ্ছি।”

এলাকার সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ উদ্যোগের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় গত ৩০ বছরেও নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মানবেতর অবস্থা দেখে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আলহাজ মো. মতিয়ার রহমান ও আলহাজ হাবিবর রহমান হাবিসহ কয়েকজন এগিয়ে এসেছেন। তারা নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও টিনের চাল দিয়ে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

শার্শা উপজেলা শিক্ষা অফিসার রেহেনা বানু জানান, “বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি এবং ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য মাটির সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও বরাদ্দ না আসায় নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।”

দেশের প্রধান স্থলবন্দরের এই বিদ্যালয়টির এমন জরাজীর্ণ দশা আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :