ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘শেখ হাসিনার’ দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার একদিন আগেই তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি আবারও জোরালোভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “তাঁকে ফিরতে দিন” বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক চ্যানেলেও ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তাঁকে অবশ্যই দেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
আগামীকাল দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ খবর প্রকাশের পরই ঢাকার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি “সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত” এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেই মঞ্চেই হোক, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এভাবে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আজ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি, শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করতে হবে। তিনি যেখানেই থাকুন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নেন। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার কয়েক দফায় তাঁর প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক চিঠি দিল্লিতে পাঠিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লির এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।




