সড়কের কাজ বন্ধ ৪ বছর ধরে, ভোগান্তিতে ৪০ হাজার জনসাধারণ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল-চারটভাঙা সড়কের উন্নয়নকাজ (পাকাকরণ) প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ। ওই সড়কপথে যান চলাচল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার জনসাধারণের। ঠিকাদার লাপাত্তা থাকায় সড়কটির উন্নয়নকাজ বন্ধ বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

২০২২ সালের মাঝামাঝিতে ‘রাজনৈতিক কারণে’ সড়কের কাজ ফেলে এলাকাছাড়া (লাপাত্তা) হন ঠিকাদার মো. মোফাজ্জল হোসেন।

উপজেলা এলজিইডির কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার মাছুয়াখাল থেকে চারটভাঙা এলাকা পর্যন্ত ও মাছুয়াখাল-চারটভাঙা কাঁচা সড়কটি তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১০ ফুট চওড়া। প্রায় ৩০ হাজার লোক এ সড়কপথে যাতায়াত করছেন। নানা প্রক্রিয়া শেষে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের (অধিদপ্তর) উদ্যোগে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে এ কাঁচা সড়কটির উন্নয়নের (পাকাকরণ) কাজ শুরু হয়। কাজটি পায় ‘মেসার্স মতলব ট্রেডিং’ নামে স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মোফাজ্জল হোসেন কাজটির দেখভাল করেন। কাজের ব্যয় ধরা হয় সাড়ে তিন কোটি টাকা। কার্যাদেশ অনুসারে ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্র জানায়, ঠিকাদার মো. মোফাজ্জল হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের (শেখ হাসিনার আমলে) উপজেলা কমিটির দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। চাঁদপুর-২ আসনের সে সময়কার সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুলের ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০২২ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বীরবিক্রম। মায়ার প্রতিপক্ষ ছিলেন নুরুল আমিন রুহুল। মায়া নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ‘রাজনৈতিক হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে’ ঠিকাদার মো. মোফাজ্জল হোসেন ওই সড়কের কাজ ফেলে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে এলাকাছাড়া (লাপাত্তা) হন। আর এলাকায় ফেরেননি। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ না করায় প্রায় চার বছর ধরে সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে।

ওই সড়কের মেহেরণ, চারটভাঙা ও খর্গপুর এলাকায় দেখা যায়, কাঁচা সড়কের কিছু অংশে ইটের খোয়া বিছানো। সড়কপথে ঝুঁকি নিয়ে চলছে হালকা যানবাহন। স্থানীয় লোকজন ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করছে সড়কপথে। সড়কের উন্নয়নকাজ বন্ধ রয়েছে।

মেহেরণ গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল দাস বলেন, এ সড়কপথে উপজেলার মেহেরণ, খর্গপুর, নারায়ণপুর, আশ্বিনপুর, চারটভাঙা, মাছুয়াখাল ও কালিকাপুরসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার লোক যাতায়াত করছেন। সাত থেকে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ সড়কে যাতায়াত করছে। বৃষ্টি হলে কাঁচা সড়কে পানি ও কাঁদা জমে থাকে। তৈরি হয় গর্ত ও খানাখন্দের। এতে লোকজনের খুব ভোগান্তি হচ্ছে।

যাতায়াতকষ্টের কথা জানালেন নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আবুল কালাম, মেহেরণ এলাকার নগেন্দ্র দাসসহ আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় চার বছর ধরে সড়কের কাজ বন্ধ থাকলেও এ ব্যাপারে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে এলজিইডি কার্যালয়।

সড়ক উন্নয়নকাজের ঠিকাদার মো. মোফাজ্জল হোসেনের মুঠোফোন নম্বরে গতকাল বৃহস্পতিবার একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন ধরেননি তিনি।

উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী (উপজেলা প্রকৌশলী) সাইফুল ইসলাম জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি কাজ শেষ করছেন না। ওই ঠিকাদার বাতিল করে নতুন ঠিকাদার দেওয়ার জন্য এলজিইডির চাঁদপুর কার্যালয়কে চিঠি দিয়েছেন। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডির চাঁদপুর কার্যালয় উক্ত ঠিকাদারের সাথে চুক্তি নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে সড়কের কাজ পুনরায় চালু করা হবে। এলজিইডির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ইশরাকের মতো ত্যাগীরা নির্দেশ পায় পদত্যাগের, নুর-রাশেদরা বিএনপির ক্ষতি করলেও টু শব্দ হয় না: জুমা

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন

Scroll to Top