বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় মো. মনির ফকির (৫০) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর আগে তাঁর ঘর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকারের শব্দ পাওয়ার দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মনির ফকির ওই গ্রামের মৃত আফসার ফকিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে মনির ফকিরের বাড়ি থেকে হঠাৎ চিৎকার ও কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান আশপাশের লোকজন। কয়েকজন প্রতিবেশী খোঁজ নিতে গেলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে ‘পারিবারিক ব্যাপার’ বলে তাঁদের তাড়িয়ে দেন। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই পুরো এলাকায় রহস্য ও নানা গুঞ্জন শুরু হয়। জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ এর নেপথ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক প্রতিবেশী নারী জানান, অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই মনির ফকিরের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতে মনির পাশের এক বাড়ির সামনে গিয়ে ‘বড় ভাই’ বলে ডেকে স্ত্রী-মেয়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন এবং তাঁকে বাঁচানোর আকুতি জানান। পরে তাঁকে পাশের বাড়ির সিঁড়িতে বসানো হলে তিনি আবারও নিজের বাড়িতে ফিরে যান। এরপর আবারও ‘আমাকে বাঁচাও’ বলে তীব্র চিৎকারের শব্দ শোনা যায় এবং কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।
আরেক প্রতিবেশী জাকিয়া বেগম জানান, রাতের ওই ঘটনায় মনির ফকিরকে মারধর করা হয়েছিল বলে তাঁদের সন্দেহ। ঘটনাটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে না।
এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের মেয়ে মারিয়া। তিনি বলেন, “আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত ৭-৮ মাস ধরে আমিই পরিবারের ভরণপোষণ চালাচ্ছি। সংসারের নানা বিষয় নিয়ে বাবার সঙ্গে মনমালিন্য বা ঝগড়া হতো—এটি সত্যি; তাই বলে বাবাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা চাই সুষ্ঠু ময়নাতদন্ত হোক, তাহলেই মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, তাঁর স্বামী একসময় খুলনায় গাড়িচালক ছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় স্ট্রোক করার পর থেকে তিনি কর্মক্ষমহীন হয়ে পড়েন। এতে সংসারে চরম অনটন দেখা দেয় এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ তৈরি হতো। তবে তাঁর স্বামীর মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই (স্ট্রোকজনিত কারণে) হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, নিহতের বোনের দাবি রাত ৩টার দিকের একসময়ে মৃত্যুর খবর পেয়ে ভোরে তাঁরা বাড়িতে এসে ভাইয়ের মরদেহ খাটের ওপর দেখতে পান। ভাইয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তাঁদের মনেও গভীর সন্দেহ রয়েছে জানান তারা।
এ বিষয়ে বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই এটি হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।




