মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর ট্রাম্প প্রসাশনের তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে তিন হাইপ্রোফাইল কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তাদের একজন জেসন রেডিং কিনোনেস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই জ্যেষ্ঠ ফেডারেল প্রসিকিউটর। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানায়, প্রেসিডেন্টের চাওয়া কিছু সবচেয়ে বিতর্কিত তদন্ত এগিয়ে নিতে ইচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও বিভাগীয় নেতৃত্বের চাপে দক্ষিণ ফ্লোরিডার ইউএস অ্যাটর্নির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন কিনোনেস। বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশনের প্রধান জন আইজেনবার্গও শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধানের পদ ছেড়েছেন হারমিত ধিলন।

আমি না থাকলে ‘আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না’: ট্রাম্পআমি না থাকলে ‘আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না’: ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরেই নানা কারণে বিচার বিভাগে এ রদবদল প্রত্যাশিত ছিল। নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল বিবেচনায় কিছু কর্মকর্তার লাভজনক আইন ফার্মের চাকরিতে ফেরার কথা, অথচ ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের আরও দুই বছর বাকি। ডেমোক্র্যাটরা এখন তদারকির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তদন্ত শুরুর অবস্থানে থাকায় বিচার বিভাগের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করছেন, বিভাগের ভেতরের উগ্রপন্থীরা বোঝা হয়ে উঠতে পারেন।

ব্ল্যাঞ্চ বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন। কিনোনেস ও ধিলনের মতো কিছু কর্মকর্তাকে এমন হাইপ্রোফাইল প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমস্যা তৈরির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যা তারা রাখতে পারেননি। পদত্যাগ করলেও ডেমোক্র্যাটরা ধিলন ও কিনোনেসের কার্যক্রম তদন্তে আগ্রহ হারাবেন না বলেই ধারণা।

ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে নতুন কর্মকর্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সমস্যায় পড়তে পারে। তবে মেয়াদের বাকি সময় কাজ চালাতে প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত নেতা বসাতে পারেন। অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে কিনোনেসের বিদায়ের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, জেসনের নেতৃত্বের জন্য বিভাগ কৃতজ্ঞ।

মিয়ামিতে কিনোনেসের বিদায় ট্রাম্পের কথিত রাজনৈতিক শত্রুদের একটি বড় অংশকে গ্র্যান্ড কনস্পিরেসি হিসেবে অভিযুক্ত করার বিচার বিভাগের চলমান উদ্যোগের সম্ভবত শেষ আঘাত। এক বছরের মেয়াদে কিনোনেসের কার্যালয় ট্রাম্পের বিচার বিভাগের আনা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি অভিযোগ আদায় করেছে, কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য পেতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য পেতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র তবে অন্য কিছু কাজে বিভাগীয় নেতৃত্বের বিরাগভাজন হন তিনি। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্রাম্প ও তার প্রচারণার তদন্তে জড়িত সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সে গ্র্যান্ড জুরি ব্যবহারের উদ্যোগের পেছনে ছিলেন তিনি। ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের মধ্যে মামলা আনতে পারবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে দায়ী করেন।

কিনোনেস প্রায়ই নিজের জেলার বাইরে, বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডিসিতে যেতেন। এতে তার প্রতিশ্রুত বড় মামলা দাঁড় করাতে না পারার কথাই শীর্ষ কর্মকর্তাদের মনে পড়ত। শুক্রবার মিয়ামির ইউএস অ্যাটর্নি কার্যালয়ে ব্ল্যাঞ্চের ঘোষণা ছিল অপ্রত্যাশিত। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানান, কিনোনেসের আকস্মিক পতনের বিষয়ে অনেকেই অন্ধকারে ছিলেন।

 

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top