ফারুক হত্যাকাণ্ডে ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, তদন্তে রহস্য উদ্ঘাটনের প্রত্যাশা

ফারুক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার আপন ভাই বারেকের বিরুদ্ধে গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফারুককে হত্যার উদ্দেশ্যে তারই দোকানের দুই কর্মচারীকে ভাড়া করেছিলেন বারেক। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের প্রায় চার মাস আগে দুটি ধারালো দা তৈরি করে নিয়মিত ধার দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও অন্তত দুইবার ফারুককে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেই ঘটনাগুলোর পরিকল্পনার সঙ্গেও বারেক জড়িত ছিলেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার দিন দুই অভিযুক্তকে ফারুকের ঘরে প্রবেশ করানো হয়। এ সময় বারেক বাইরে রাস্তায় অবস্থান করে পাহারা দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর অভিযুক্তদের নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পথও তিনি নিশ্চিত করেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে, ফারুকের ব্যাংকে থাকা এফডিআরকে কেন্দ্র করেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের ধারণা, ওই অর্থনৈতিক বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে বারেকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।