চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে দুইজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর দুইজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জনাব আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান মানিকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নারায়ণপুর বাজারের পদ্মা ব্যাংক সংলগ্ন সড়কে অভিযান চালিয়ে ৫ পিস ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রসুলপুর গ্রামের মৃত নুরুজ্জামান সরকারের ছেলে মোঃ মোজাম্মেল সরকার (৪৮) এবং তেলি মাছুয়া গ্রামের মৃত হানিফ মিয়াজীর ছেলে হাবিবুর রহমান মিয়াজী (৩৫)।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মতলব দক্ষিণ থানায় মামলা (নং-৩৪) দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, থানার রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় ১ নম্বর আসামি মোজাম্মেল সরকারের বিরুদ্ধে পূর্বে আরও তিনটি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, ২৯ আগস্ট মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘিলাতলী গ্রামের তামজিদ মিয়া (২৮) এবং তেলিমাছুয়াখাল গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৬)-কে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা মোতাবেক পরিচালিত মোবাইল কোর্টে উভয়কে এক মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের অতিরিক্ত দণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মোঃ হাফিজুর রহমান মানিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় এ ধরনের বিশেষ ও যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযানে মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




