সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে অত্যাধুনিক এই মসজিদে নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এ জটিলতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় সারাদেশে নির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রকল্পের অংশ হিসেবে তাড়াশ উপজেলায় এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি মসজিদটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়ন লিমিটেড একই বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু করে।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন সরকারপ্রধান ভার্চুয়ালি মসজিদটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো মসজিদটি মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ধর্মীয় স্থাপনাটি ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
এদিকে দীর্ঘদিন মসজিদটি বন্ধ থাকায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এলাকার শতাধিক মুসল্লি জানান, অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদ নির্মাণ করা হলেও তারা সেখানে নামাজ আদায় করতে পারছেন না। দ্রুত মসজিদটি খুলে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
মসজিদের সেক্রেটারি শিহাব উদ্দিন সরকার বলেন,
“উদ্বোধনের দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও মসজিদটি তালাবদ্ধ রয়েছে। মুসল্লিদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত মসজিদটি খুলে দেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়ন লিমিটেডের ম্যানেজার সেলিম হোসেন বলেন,
“আমরা মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছি। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নিলেই সমস্যার সমাধান হবে।”
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন,
“জনবল ছাড়া একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে মসজিদটি খুব শিগগিরই মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”












