সাম্প্রতিক
আলিফের চোখের দৃষ্টি টোটালি শেষ, চিকিৎসকের বরাতে সার্জিস ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিতট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ নয়, হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলা, সারজিস আহত টিসিবির পণ্য নিতে এসে দেয়াল ধসে মেয়ের মৃত্যু সাংবাদিককে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদলেন মা প্রেমিকের সঙ্গে কথার সময় শিশুর কান্না ৩ বছরের সন্তানকে হত্যা মায়ের আইনজীবীদের হামলায় শিক্ষার্থীসহ ৭ জন আহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাবুগঞ্জে রমরমা মাদক ব্যবসা: হুমকির মুখে তরুণ সমাজ, জিরো টলারেন্স নীতির দাবিতে সচেতন মহল বিএনপি শুধু ছাত্রদল-যুবদলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজে সর্বস্বান্ত পরিবার, সরকারের জরুরি সহায়তার আবেদন

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বদরপুর গ্রামে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাণ বাঁচাতে একই পরিবারের চার সদস্য ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ে গড়ে তোলা ঘর, আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সবকিছু আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। বর্তমানে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে স্বজনের বাড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।
রোববার (২৬ জুলাই) আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল এবং প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের বসতঘর পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত যুবক মুরাদ জানান, সকালে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হতে দেখে তার মা সুমি বেগম বিষয়টি চাচা নাসিরকে জানান। নাসির সিলিন্ডারটি পরীক্ষা করতে গেলে লিক হওয়া গ্যাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করা হলে বিকট শব্দে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, “আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন পুরো ঘর গ্রাস করে। আমি, আমার মা সুমি বেগম, ভাগ্নি ওজিহা এবং চাচা নাসির দ্রুত দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পাই। কিন্তু চোখের সামনে পুড়ে যায় আমাদের জীবনের সব সম্বল।”
স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তাতে সফল হননি। খবর পেয়ে কাউখালী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে বাড়ির সঙ্গে সংযোগকারী প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
কাউখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সাজিবুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। কিন্তু বাড়ির সঙ্গে সংযোগকারী প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে হাতে ও ভ্যানগাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে যাই। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই পুরো বাড়িটি আগুনে পুড়ে যায়।”
মুরাদ আরও জানান, কয়েক মাস আগে তার বাবা ফারুক হোসেন মারা গেছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়েছে। এখন বসতঘর হারিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে একসঙ্গে বসবাস করাও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। পরনের কাপড় ছাড়া প্রায় সবকিছুই আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পরও প্রশাসনের কেউ দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা কোনো সদস্য আমাকে জানাননি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম ও চলাচলের অনুপযোগী সড়কের কারণে সময়মতো ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে এই সড়কটি চলাচলযোগ্য করা অত্যন্ত জরুরি।
সব হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি সরকারের কাছে জরুরি পুনর্বাসন, একটি নতুন বসতঘর নির্মাণে সহায়তা এবং আর্থিক অনুদানের আবেদন জানিয়েছে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :