সাম্প্রতিক
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি সিরাজদিখানে খাল খননের টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা সাপ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিবেদিত দীঘিনালার তরুণ হৃদয়, উদ্ধার করেছেন তিন শতাধিক সাপ নেত্রকোনায় মজলিসে শুরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে মহাসড়ক খুঁড়ে সুড়ঙ্গে ড্রেজারের অবৈধ পাইপ, ঝুঁকিতে নদীপাড়ের সড়ক হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে লালপুর থানার সাফল্য কচুয়া থানা পুলিশ কর্তৃক ২০১ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ০৩ জন গ্রেফতার” গোদাগাড়ীতে সড়ক সংস্কার: অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে মেলেনি সত্যতা ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ভিমরুলীতে ডিজে ও উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেমে কড়াকড়ি, মাঠে প্রশাসন

সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭ হাজার ৩৬৪ শিক্ষার্থীর

২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে ৭ বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, যা একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫.১১%। এ সময়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৮ হাজার ৭১৩ জন নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন, যা মোট নিহত শিক্ষার্থীর ৪৫.১৯%। অন্যদিকে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬ জন, যা ৫৪.৮০%।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছেন সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ৮৪১ জন। পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯২৩ জন। এছাড়া যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ৯২৭ জন, বাইসাইকেল ও রিকশা আরোহী হিসেবে ৫১৯ জন এবং অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, মহাসড়কে ১ হাজার ৪৮২ জন, আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ১৪৯ জন, শহরের সড়কে ১ হাজার ৭৮৬ জন এবং গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৪৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। পথচারী হিসেবে নিহতদের মধ্যে জাতীয় মহাসড়কে ২৫১ জন, আঞ্চলিক সড়কে ৪০৯ জন, শহরের সড়কে ৫৩৭ জন এবং গ্রামীণ সড়কে ৭২৬ জন রয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায় বা চাপায় বেশি নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে। ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছে, যা আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।

এছাড়া গত সাড়ে ৭ বছরে অসাবধানভাবে রেললাইন পারাপার এবং কানে হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

তাদের মতে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও অনিরাপদ যানবাহন, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার অভাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ঘাটতি, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের নিহতের অন্যতম কারণ।

সংস্থাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইন, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্ন, গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জীবনমুখি প্রচারণা, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং কোনোভাবেই যেন অপ্রাপ্ত বয়স্করা বাইক চালাতে না পারে সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সুপারিশ করেছে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :